বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিকে (যা শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়েছে) কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও ভিড়ের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই যানজট রাতে ৩০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। স্থবির হয়ে পড়ে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। এর মধ্যেই যানজটে আটকে থেকে হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে এক প্রসূতি নারী গাড়িতেই সন্তান প্রসব করেছেন।
শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে সফিপুর থেকে চন্দ্রা বাস টার্মিনাল এবং সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে গোড়াই মির্জাপুর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এই অচলাবস্থা কাটেনি। সরেজমিনে কালিয়াকৈর বাইপাস এলাকায় দেখা যায়, উত্তরবঙ্গ থেকে আসা যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছে। অনেক যাত্রী জিনিসপত্র নিয়ে হেঁটেই গন্তব্যের দিকে রওনা হয়েছেন।
যানজটের করুণ পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন কালিয়াকৈরের বাসিন্দা আমিনুল ইসলামের পরিবার। তিনি জানান, সন্ধ্যায় তার আসন্নপ্রসবা ভাতিজিকে সিজারের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু চন্দ্রা এলাকায় তীব্র যানজটে আটকা পড়ে গাড়ি। ব্যথাতুর অবস্থায় কোনো উপায় না দেখে গাড়িতেই ওই নারীর সন্তান প্রসব হয়। পরে মা ও নবজাতককে সফিপুরের তানহা হেলথ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
যাত্রী ও চালকদের ক্ষোভ:
আব্দুল হাই (বাস যাত্রী): “গাড়ি পিঁপড়ার মতো চলে আবার আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে। দেশে কি ট্রাফিক পুলিশ নেই?”
বিল্লাল হোসেন (প্রাইভেট কার চালক): “১০ মিনিটের রাস্তা পার হতে ২ ঘণ্টা লাগছে। কোথাও কোনো ট্রাফিক পুলিশ দেখছি না।”
রাব্বি হোসেন (পিকআপ চালক): “গাড়িতে ৩টা গরু নিয়ে ২ ঘণ্টা ধরে আটকে আছি। এলোমেলোভাবে গাড়ি রেখে রাস্তা বন্ধ করে রাখা হয়েছে।”
সড়কে ট্রাফিক পুলিশের অনুপস্থিতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে গাজীপুর রিজিয়নের নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি সওগাতুল আলম এবং জেলা ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, সূর্যাস্তের আগে পৌঁছাতে না পারায় তারেক রহমান স্মৃতিসৌধে যাননি, তার পক্ষে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কিন্তু ততক্ষণে মহাসড়কে জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






