বিদেশে কর্মী পাঠাতে ইচ্ছুক দেশের বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। মন্ত্রণালয় এই নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আগ্রহী এজেন্সিগুলোর জন্য ১০টি মানদণ্ড ঘোষণা করেছে।
২৯ অক্টোবর মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দিলে কোনো আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে। নির্বাচিত এজেন্সিগুলোর মাধ্যমেই ভবিষ্যতে বিদেশে কর্মী প্রেরণের অনুমোদন দেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী, লাইসেন্স প্রাপ্তির পর কমপক্ষে পাঁচ বছর সন্তোষজনকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বিগত পাঁচ বছরে অন্তত তিন হাজার কর্মী বিদেশে প্রেরণের প্রমাণ থাকতে হবে। এছাড়া, গত পাঁচ বছরে অন্তত তিনটি ভিন্ন গন্তব্য দেশে কর্মী প্রেরণের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক।
প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন, নিয়োগ ও বিদেশে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বৈধ লাইসেন্স থাকতে হবে। একইসঙ্গে কর্মী প্রেরণকারী দেশের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভালো আচরণের সার্টিফিকেট থাকতে হবে।
রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে মানব পাচার, জোরপূর্বক শ্রম, শ্রম আইন লঙ্ঘন, অর্থপাচার বা অনৈতিক অভিবাসন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো রেকর্ড থাকা যাবে না।
এজেন্সির নিজস্ব প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন কেন্দ্র থাকতে হবে, যেখানে আবাসন, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং ইন্ডাকশন মডিউল সুবিধা থাকবে। পাশাপাশি অন্তত পাঁচজন আন্তর্জাতিক নিয়োগকর্তার কাছ থেকে সন্তোষজনকভাবে অভিবাসন কার্যক্রম সম্পাদনের প্রশংসাপত্র থাকতে হবে।
রিক্রুটিং এজেন্সির অন্তত তিন বছর যাবৎ পরিচালিত ১০ হাজার বর্গফুট আয়তনের স্থায়ী অফিস থাকতে হবে, যেখানে কর্মী বাছাই ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব। এছাড়া, পূর্বে বিদেশে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে গন্তব্য দেশের (মালয়েশিয়াসহ) আইনসম্মত ও পদ্ধতিগত নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রমাণ থাকতে হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই নতুন মানদণ্ডের মাধ্যমে বিদেশে কর্মী প্রেরণ খাতে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি অনিয়ম, মানব পাচার ও জালিয়াতির মতো কর্মকাণ্ড প্রতিরোধেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


