যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের সময় রাশিয়ার উপর দিয়ে বিমান চলাচল নিষিদ্ধের প্রস্তাব করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এমন প্রস্তাবের পাল্টা জবাব দিয়েছে চীনের বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান সংস্থাগুলো।
মার্কিন প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা ছয়টি চীনা বিমান সংস্থার মধ্যে রয়েছে-এয়ার চায়না, চায়না ইস্টার্ন এবং চায়না সাউদার্ন।
মার্কিন প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, এই ধরনের বিমানগুলো চীনা বিমান সংস্থাগুলোকে আমেরিকান বিমান সংস্থাগুলোর তুলনায় অন্যায্য খরচের সুবিধা দেয়, যা রাশিয়ার আকাশসীমা অতিক্রম করতে পারে না।
চলতি সপ্তাহে মার্কিন পরিবহন দপ্তরে দাখিল করা এক আবেদনে চায়না ইস্টার্ন জানিয়েছে, প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা ‘‘জনস্বার্থের ক্ষতি করবে’’ এবং চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের ‘‘যাত্রীদের অসুবিধা’’ করবে। অতিরিক্ত ফ্লাইটের সময় বৃদ্ধির কারণে খরচ ও বিমান ভাড়া বৃদ্ধি পাবে, যা সমস্ত ভ্রমণকারীদের উপর বোঝা।
চায়না সাউদার্ন সতর্ক করে বলেছে, রাশিয়ার আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞা হাজার হাজার ভ্রমণকারীদের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
এয়ার চায়নার অনুমান, ক্রিসমাস মৌসুমে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে কমপক্ষে ৪,৪০০ যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
গত সপ্তাহে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুনও প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার প্রতি পাল্টা আক্রমণ করে বলেছিলেন- এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে যাত্রীদের ‘‘শাস্তি’’ দেবে।
নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি সাংহাইয়ের বিমান শিল্প বিশেষজ্ঞ ডেভিড ইউ বলেন, রাশিয়ার আকাশসীমা অতিক্রম করতে না পারার কারণে মার্কিন বিমান সংস্থাগুলোর কিছু মার্কিন-চীন রুটের ফ্লাইট পথ প্রায় দুই থেকে তিন ঘন্টা বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘ যাত্রার জন্য আরও জ্বালানি প্রয়োজন হয় এবং মার্কিন বিমান সংস্থাগুলোর লাভজনকতার উপর চাপ পড়ে।
ডেভিড ইউ বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্র-চীন রুট ঐতিহাসিকভাবে উভয় পক্ষের বিমান সংস্থাগুলোর জন্য অর্থ উপার্জনকারী ছিল। চীনা বিমান সংস্থাগুলির দৃষ্টিকোণ থেকে যদি আপনি রাশিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে পারেন, তবে আপনার খরচ কমে যায় ‘’
তা সত্ত্বেও চীনা বিমান সংস্থাগুলি লোকসানের সাথে লড়াই করছে, বিশেষ করে করোনা মহামারীর পর থেকে।
মার্কিন পরিবহন বিভাগ তার প্রস্তাবিত আদেশে বলেছে, রাশিয়ান আকাশসীমা অতিক্রম করার জন্য চীনা বিমান সংস্থাগুলোর ক্ষমতা আমেরিকান এবং চীনা বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে ‘‘প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্যহীনতা’’ তৈরি করেছে।
মার্কিন পরিবহন বিভাগ আরও জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করার আগে তারা জনসাধারণের মতামত বিবেচনা করবে।
এ ছাড়া এয়ার ফ্রান্স-কেএলএমসহ ইউরোপীয় বিমান সংস্থাগুলো এ অভিযোগ করেছে।


