বাংলাফ্লো প্রতিনিধি
ঢাকা: ফ্রান্স বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের নতুন রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো ক্ষেত্রগুলোতে দুই দেশের স্বার্থ ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় এখন অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়ার উপযুক্ত সময়।
মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত সেরে-শারলে জানান, ফ্রান্সের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে বাংলাদেশের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, “ইন্দো-প্যাসিফিক হলো উন্মুক্ততা ও অবাধ চলাচলের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অঞ্চল। বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ফ্রান্স এখানে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার বড় সুযোগ দেখছে।”
রাষ্ট্রদূত আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পন্ন হওয়ার আশা প্রকাশ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইউরোপের মতো বাংলাদেশকেও নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা ও সামাজিক বিভাজনের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।
অধ্যাপক ইউনূস ফ্রান্সকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম ও নির্বাচন প্রস্তুতি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, “আপনার দায়িত্ব গ্রহণ এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।”
ফরাসি রাষ্ট্রদূত সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, ফ্রান্স বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) উত্তরণ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা জোরদার করবে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করবে। তিনি বলেন, “এই উত্তরণ যেন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে ফ্রান্স সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”
বাংলাফ্লো/এফআইআর






