বাংলাফ্লো প্রতিনিধি
ঢাকা: রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেটের কাছ থেকে দুটি ড্রামে ভরা ২৬ টুকরা খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের পর, তার পরিচয় শনাক্ত করেছে সিআইডি। নিহত ব্যক্তির নাম আশরাফুল হক (৪২)। তিনি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার একজন কাঁচামাল ব্যবসায়ী।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য নিহতের পরিবার তাঁর মালয়েশিয়া ফেরত বন্ধু জরেজ মিয়াকে সন্দেহ করছে, যার সঙ্গে আশরাফুল গত মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালে রেখেই ঢাকায় এসেছিলেন।
নিহত আশরাফুলের শ্যালক আব্দুল মজিদ জানান, তাঁর বোন জামাই (আশরাফুল) ভারত ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ ও আলু আমদানি করতেন। গত মঙ্গলবার তিনি অসুস্থ বাবাকে রংপুরের একটি হাসপাতালে রেখে, তাঁর বন্ধু জরেজ মিয়ার (শ্যামপুর নিবাসী) সঙ্গে ঢাকায় যান।
বুধবার বিকেল ৫টায় আশরাফুলের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী লাকী বেগমের শেষ কথা হয়। এরপর থেকে লাকী বেগম তাঁর স্বামীকে ফোন করলে, ফোনটি রিসিভ করতেন বন্ধু জরেজ মিয়া। আশরাফুলের খোঁজ করলে জরেজ জানাতেন, “আশরাফুল ব্যস্ত আছে, কালেকশনে গেছে।”
আব্দুল মজিদ আরও বলেন, “বৃহস্পতিবার দুপুরেও ফোন দেওয়ার পর জরেজ ফোনটি রিসিভ করে, কিন্তু আশরাফুলকে ফোনটি দিচ্ছিল না। এ জন্য আমার বোন জরেজের স্ত্রীর কাছে যায়। তিনি জরেজকে ফোন দিলে জরেজ তার স্ত্রীকে বলেন, আশরাফুলের ফোন ড্রেনে কুড়ায় পাইছে।”
স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে, লাকী বেগম বৃহস্পতিবার বিকেলে রংপুরের বদরগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করতে যান। সেখানেই তিনি পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারেন, ঢাকায় তাঁর স্বামীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এই খবর শুনে তিনি স্তব্ধ হয়ে পড়েন।
নিহতের পরিবার জানিয়েছে, জরেজ মিয়া দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন। দেশে ফেরার পর তিনি আশরাফুলের সঙ্গে ঘুরতেন এবং সম্প্রতি আশরাফুলের কাছে মোটা অংকের টাকা ধার চেয়েছিলেন।
বদরগঞ্জ থানার ওসি একেএম আতিকুর রহমান জানান, তাঁরা নিহতের পরিবারের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ঢাকার রমনা ও শাহবাগ থানাকে তদন্তে সহযোগিতা করছেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহবাগ থানা পুলিশ ঈদগাহের সামনে থেকে নীল রঙের দুটি ড্রামের ভেতর থেকে ২৬ টুকরা খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশ্লেষণ করে মরদেহটি আশরাফুলের বলে শনাক্ত করে।বাংলাফ্লো/এফআইআর






