জেলা প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও: বিয়ের আয়োজন, ধুমধাম, আনন্দ—সবই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু বাসররাতে এক গ্লাস পানি দিয়ে কনের মুখ ধোয়ার পরেই ঘটে বিপত্তি। বরের দাবি, বিয়ের আগে যাকে দেখানো হয়েছিল, বাসরঘরে বসে থাকা নববধূ সেই নারী নন! তিনি অন্য কেউ। ‘কনে বদল’-এর এই অদ্ভুত অভিযোগকে কেন্দ্র করে আনন্দ উৎসব মুহূর্তেই রূপ নেয় সন্দেহ ও আইনি জটিলতায়। ঘটনাটি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত, যার জেরে এখন কারাগারে দিন কাটছে বরের।
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভান্ডার এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনা এখন জেলাজুড়ে ‘টক অব দ্য টাউন’। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলায় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁও আদালত বর রায়হান কবিরের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ও পাল্টাপাল্টি মামলা: গত বছরের ১ আগস্ট রাণীশংকৈলের ভান্ডার এলাকার জিয়ারুল হকের মেজো মেয়ের সঙ্গে পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার রায়হান কবিরের বিয়ে হয়। বাসররাতেই বরপক্ষ ‘কনে বদল’-এর অভিযোগ তোলে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ হলেও সুরাহা হয়নি।
২৭ আগস্ট: কনের বাবা জিয়ারুল হক বাদী হয়ে বর রায়হান ও তার দুলাভাই মানিক হাসানকে আসামি করে মামলা করেন।
২ সেপ্টেম্বর: বর রায়হান বাদী হয়ে কনের বাবা ও ঘটক মোতালেবকে আসামি করে পাল্টা প্রতারণার মামলা করেন।
বরপক্ষের দাবি: মেকআপের আড়ালে প্রতারণা বরের মামা বাদল অভিযোগ করে বলেন, ঘটক মোতালেব জুলাই মাসের শেষের দিকে শিবদিঘী এলাকার একটি চায়ের দোকানে এক মেয়েকে দেখান। ওই মেয়েকেই সবার পছন্দ হয়। পরবর্তীতে কনেপক্ষের তাড়াহুড়োয় ১ আগস্ট বিয়ে সম্পন্ন হয়। তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত মেকআপের কারণে বিয়ের আসরে কনে পরিবর্তনের বিষয়টি আমরা ধরতে পারিনি। কিন্তু বাসররাতে মুখ ধোয়ার পর রায়হান বুঝতে পারে, এটি সেই মেয়ে নয় যাকে দেখানো হয়েছিল। আমাদের বিশ্বাস, ঘটক ও মেয়ের বাবা পরিকল্পিতভাবে এই প্রতারণা করেছেন।’ পরদিনই মেয়েকে তার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
কনেপক্ষের দাবি: যৌতুকের জন্য নাটক কনে বদলের অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ দাবি করেছেন কনের বাবা জিয়ারুল হক। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে জেমিন আক্তার কলেজের ছাত্রী। বরপক্ষ আমাদের বাড়িতে এসে তাকে দেখে গেছে। বিয়েতে ৭০ জন বরযাত্রী ছিল, সেখানে কনে বদল অসম্ভব।’ তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, ‘বিয়ের পরদিনই তারা ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। আমি জমি বিক্রি করে টাকা দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু সময় পাইনি। এখন যৌতুকের বিষয়টি ঢাকতে তারা আমাকে হেয় করার জন্য এসব মিথ্যা গল্প সাজাচ্ছে।’
ঘটক ও আইনজীবীর বক্তব্য: ঘটক মোতালেব বলেন, ‘আমি কনের বাবার বাড়িতেই মেয়ে দেখিয়েছি, অন্য কোথাও নয়। পরের ঘটনার দায় আমার নয়।’ বরপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন জানান, বিষয়টি মীমাংসার শর্তে রায়হান জামিনে ছিলেন। কিন্তু সমাধান না হওয়ায় আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন। বিষয়টি এখন বিচারাধীন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






