বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব, বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।
বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও মিডিয়া সেলের মাধ্যমে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, “ফজরের ঠিক পরে দেশনেত্রী ইন্তেকাল করেছেন। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।” গত ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন, তিনি আইসিইউতে অত্যন্ত জটিল ও সংকটময় মুহূর্তে ছিলেন। অবশেষে আজ সকালে জীবনযুদ্ধে হার মানলেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ।
১৯৪৬ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণকারী খালেদা জিয়া ১৯৮১ সালে স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতবরণের পর রাজনীতির কঠিন সময়ে দলের হাল ধরেন। আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার অনমনীয় ভূমিকার জন্য তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে খ্যাতি পান। দীর্ঘ ৯ বছরের সংগ্রামে তিনি সাতবার আটক ও গৃহবন্দী হয়েছিলেন, তবুও নির্বাচনের প্রশ্নে আপস করেননি।
১৯৯১ সালে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। তার শাসনামলে অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের উপবৃত্তি এবং চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি ছিল যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের নেতৃত্বে তিনি আবারও প্রধানমন্ত্রী হন।
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অজেয়; ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত পাঁচটি নির্বাচনে তিনি যে কয়টি আসনে দাঁড়িয়েছেন, সবকটিতেই জয়লাভ করেছেন। ২০১৮ সালে কারাদণ্ড ভোগ করলেও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি মামলা থেকে খালাস পান। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।বাংলাফ্লো/এফআইআর






