নাটকীয়তা আর থামছেই না। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনের আর বাকি দুদিন। তবে ক্রমশই জোরালো হচ্ছে নাটকীয়তা। তামিম ইকবালসহ এখন পর্যন্ত ১৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এরই মধ্যে তিন দফা দাবি জানিয়েছে মনোনয়ন প্রত্যাহার করা সংগঠকরা। রোববারের মধ্যে দাবি না মানলে দেশের কোনধরনের ক্রিকেটে অংশ না নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তারা।
শনিবার মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিসিবি নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা ক্রীড়া সংগঠকরা। সেখানে নিজেদের দাবি এবং এর যৌক্তিকতা উত্থাপন করেন মোহামেডানের কাউন্সিলর মাসুদউজ্জামান। পাশাপাশি দাবি না মানলে ক্রিকেট বর্জনের ঘোষণা দেন। সেসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার প্রথম সারির বেশ কয়েকটি ক্লাবের প্রতিনিধি।
মাসুদউজ্জামান লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘বিসিবি নির্বাচনের নামে প্রহসন হচ্ছে, যা বিশ্বে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বিতর্কিত করছে। ৬ অক্টোবর প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন আয়োজন করলে ইতিহাস কলঙ্কিত হবে।’
মনোনয়ন প্রত্যাহার করা সংগঠকদের দাবি, বর্তমান বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ বাড়িয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হোক। অথবা অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন দেওয়া হোক। প্রয়োজনে বর্তমান তফসিল বাতিল করে নতুন করে তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই দাবির পক্ষে আছে ৪৮টি ক্লাব।
এমন দাবি যৌক্তিকতা তুলে ধরা সংবাদ সম্মেলনে। নির্বাচন ঘিরে সংগঠকদের অভিযোগ- জেলা ও বিভাগীয় কাউন্সিলর তালিকায় সরকারি হস্তক্ষেপ, আবাহনী-মোহামেডানের মতো বড় ক্লাবের কাউন্সিলরদের নির্বাচন বর্জন, বিসিবি সভাপতির একক হস্তক্ষেপে কাউন্সিলরদের যোগ্যতার ক্যাটাগরি নির্ধারণ, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর সাবেক বোর্ড সভাপতি ফারুক আহমেদের কাউন্সিলরশিপ গ্রহণ, ১৫ ক্লাবকে কাউন্সিলরশিপ না দেয়া এবং জেলা-বিভাগীয় কাউন্সিলরদের আটকে রাখা।
৫ অক্টোবরের মধ্যে এসব দাবি মেনে নেওয়ার আহবান জানান তারা। অন্যথায় ক্রিকেট বর্জনের হুমকি দেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লেখা ছিল, ‘বিতর্কিত নির্বাচনের নীলনকশা বাতিল না করা হলে আসন্ন কোন ধরনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোন ক্লাব অংশ নেবে না।’
বিসিবি নির্বাচনে নাটকীয়তা শুরু হয় তৃতীয় বিভাগ বাছাই পর্ব পেরিয়ে আসা ১৫ ক্লাবের কাউন্সিলরশিপ হাইকোর্টে স্থগিত হওয়ার পর। এরপর জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালসহ মোট ১৬ জন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ক্রীড়া সংগঠকেরাও।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কি না, জানতে চাওয়া হয় মাসুদউজ্জামানের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘আপিলের সুযোগ আছে, কিন্তু আপনারাই দেখেন, আমরা পারছি কিছু? কোনোভাবে যৌক্তিক কিছু করতে পারছি? আমরা ক্রিকেটের স্বার্থেই কথা বলছি। আলোচনার দরজা খুলে দিচ্ছি। যারা রিট করেছেন, তাদের সবার প্রতিই তো এই জিনিসটা করা। এখন যদি ধরেন, আপনি মামলা করেছেন, আপনি আপোস চান, আপনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভালো চান। আপনি আলোচনা করে তারপর ব্যবস্থা নেন।’
তফসিল অনুযায়ী আগামী ৬ অক্টোবর ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে বিসিবি নির্বাচন। তিন ক্যাটাগরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন প্রার্থীরা। ক্যাটাগরি-১ বা জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে নির্বাচিত হবেন ১০ জন পরিচালক। ক্যাটাগরি-২ বা ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে পরিচালক হবেন ১২ এবং ক্যাটাগরি-৩ বা বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থা থেকে নির্বাচিত হবেন একজন। এছাড়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে দুজন পরিচালক হিসেবে বোর্ডে নিযুক্ত হবেন। পরে ২৫ জনের ভোটে নির্বাচিত হবেন সভাপতি ও সহসভাপতি।


