বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা সরকার পতনের পর বাংলাদেশ এক সন্ধিক্ষণে রয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী বছরের শুরুতে দেশটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের যাত্রায় পাশে থাকবে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ও ভবিষ্যতের নেতৃত্ব— উভয়ের সঙ্গে কীভাবে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়- এ বিষয়ে কাজ করবো।
সম্প্রতি মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক কমিটির সামনে উপস্থাপিত বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত এ রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন বলেন, আমাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত পদে মনোনীত করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। যদি অনুমোদিত হই, তবে আমি আপনাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও জোরালো করতে চাই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ, তবে এর বৃহৎ প্রতিবেশীদের আড়ালে এটি প্রাপ্য মনোযোগ পায় না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরে দুই দশকের অভিজ্ঞতায়, বিশেষ করে ঢাকায় পূর্ববর্তী দায়িত্ব পালনের সময় আমি বুঝেছি— বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্ব কতটা গভীর। একটি উন্মুক্ত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন বলেন, ‘আমি অন্তর্বর্তী সরকার ও এর পরবর্তী গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও অগ্রসর করতে চাই।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশকে প্রায়ই ‘নতুন এশিয়ান টাইগার’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। বিপুল চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে দেশটি এখন স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে— যা বাংলাদেশের জনগণের দৃঢ়তা ও অধ্যবসায়ের প্রকৃষ্ট প্রমাণ। যদি অনুমোদিত হই, আমি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা ও ঘাটতি হ্রাস এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে কাজ করব।’
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত আট বছর ধরে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী জনগোষ্ঠীর আশ্রয় দিয়ে আসছে। প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে কক্সবাজারে বসবাস করছে। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, এই জনগোষ্ঠীকে সহায়তায় অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে। আমি নিজে শিবিরগুলো পরিদর্শন করেছি, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং সেই প্রচেষ্টা প্রত্যক্ষ করেছি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এককভাবে এতো বড় অর্থায়ন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। আরও দেশকে এগিয়ে এসে আর্থিক সহায়তা বাড়াতে হবে, যাতে এই বোঝা ভাগাভাগি হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘ ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে ত্রাণ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা, পুনরাবৃত্তি কমানো এবং সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া জরুরি। যদি অনুমোদিত হই, আমি বাংলাদেশের সরকার, আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করব, যেন এই সংকটের টেকসই সমাধান বের করা যায়।’


