বাংলাফ্লো প্রতিবেদক ঢাকা: রাজধানীর চাঁনখারপুলের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এনআইসিইউর ইনকিউবেটরে ভয়াবহ আগুন লেগে মাত্র ৩ ঘণ্টা বয়সী এক নবজাতক মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় শিশুটির শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্তমানে শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের এনআইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে চাঁনখারপুলের ‘রয়েল কেয়ার হাসপাতাল’-এ এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। শিশুটির বাবা জানান, ভোর ৪টার দিকে ঢামেকের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে নবজাতকটির জন্ম হয়। জন্মের পর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা দ্রুত এনআইসিইউ সাপোর্টে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে ঢামেকের এনআইসিইউতে কোনো সিট খালি না থাকায় এক চিকিৎসকের পরামর্শে ও ওয়ার্ড বয়ের মাধ্যমে সকালে শিশুটিকে চাঁনখারপুলের রয়েল কেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
নবজাতকের পরিবারের অভিযোগ, ভর্তির আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার আগেই শিশুটিকে এনআইসিইউর ইনকিউবেটরে প্রবেশ করানো হয়। স্বজনেরা যখন নিচে কাগজপত্র ঠিক করছিলেন, তখনই ওপর থেকে চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখেন ইনকিউবেটরটিতে অতিরিক্ত উত্তাপে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে এবং শিশুর শরীর ঝলসে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই ক্লিনিকের স্টাফরা দায়িত্ব ফেলে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে স্বজনেরা নিজেরাই আগুন নিভিয়ে প্রথমে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট ও পরে ঢামেকে নিয়ে যান। চিকিৎসায় এমন চরম অবহেলার প্রতিবাদ জানাতে গেলে উল্টো ক্লিনিকের লোকজন স্বজনদের মারধর করে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে রয়েল কেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ইনচার্জ মো. আব্দুর রাজ্জাক যাবতীয় গাফিলতি অস্বীকার করে ঘটনাটিকে ‘নিছক দুর্ঘটনা’ বলে দাবি করেছেন। তাদের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই ইনকিউবেটরে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, নবজাতকটি বর্তমানে ঢামেকের ২১১ নম্বর ওয়ার্ডের এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ










