আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় প্রায় ১ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফ্রান্সের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, চলমান এই অস্থিরতায় দেশজুড়ে ২ হাজারেরও বেশি দোকানপাট ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশো মিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভকারী জনতাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের ছোড়া একটি গ্রেনেডের বিস্ফোরণে এক বিক্ষোভকারী তার একটি হাত হারিয়েছেন। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে প্রায় ১ হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে রাতভর কারফিউ জারি করতে বাধ্য হয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।
মাত্র ছয় মাস পরেই ফ্রান্সে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিক এমন একটি সংবেদনশীল সময়ে দেশজুড়ে এই নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ফরাসি রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে। আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা চলমান এই অরাজক পরিস্থিতির জন্য সরাসরি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের দায়ী করেছেন।
উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর জীবনযাত্রার ব্যয়, করের বোঝা, শিক্ষা খাতের সংকট এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত সপ্তাহে ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ রাজপথে নেমে বিক্ষোভে অংশ নেন। সেই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় এর আগে ২ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সরকারের প্রতি জনগণের এই তীব্র অসন্তোষ আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ফ্রান্সের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












