জেলা প্রতিনিধি
কুমিল্লা: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের ১৩ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জানাজা শেষে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় অবস্থান নিয়ে মহাসড়কটি সম্পূর্ণ অবরোধ করেন। এর ফলে দেশের ব্যস্ততম এই মহাসড়কের উভয় প্রান্তে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে।
নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান এবং স্থানীয় কোটবাড়ি বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সে। পরদিন শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেট সংলগ্ন সানন্দা গ্রামের পাহাড়ি জঙ্গল থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ সানন্দা এলাকার কুখ্যাত কিশোর গ্যাং লিডার তুহিন হোসেনকে (১৯) আটক করে এবং তার বাড়ি থেকেই অপ্রতিমের ছিনতাই হওয়া আইফোনটি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আনাস ও ফাহিম নামে আরও দুই সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্জন পাহাড়ি খামারে নিয়ে কিশোর অপ্রতিমকে মাথায় আঘাত ও নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। পুরোনো ছিনতাইয়ের একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় তুহিন এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, শুধু আইফোনের জন্য এমন নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কোটবাড়ি এলাকার চিহ্নিত সব কিশোর গ্যাংয়ের মূলোৎপাটন এবং গ্রেপ্তারকৃতদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের রাজপথের আন্দোলন চলবে। ঘটনাস্থলে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে দোষীদের দ্রুততম সময়ে বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হয়।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ










