বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: মানুষের শরীরের ঘ্রাণের মতো কৃত্রিম সুগন্ধ ছড়িয়ে মশাকে ডেকে আনবে ফাঁদ। আকৃষ্ট হয়ে কাছে এলেই শক্তিশালী পাখার টানে জালের ভেতর আটকা পড়বে মশা। কীটনাশক ছাড়াই এডিসসহ বিভিন্ন প্রজাতির মশা ধরতে এমন আধুনিক ফাঁদ বসাতে যাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। প্রাথমিকভাবে ডেঙ্গু রোগী বেশি ভর্তি হয়—রাজধানীর এমন ১০টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ‘বিজি সেন্টিনেল ট্র্যাপ’ নামের এই মশার ফাঁদ বসানো হচ্ছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কাছ থেকে কারিগরি সহায়তায় বিনা মূল্যে এসব ফাঁদ সংগ্রহ করেছে ডিএনসিসি। আগামী সপ্তাহ থেকে নির্ধারিত হাসপাতালগুলোয় এগুলো বসানোর কাজ শুরু হবে।
ফাঁদটিতে ‘বিজি-লিওর’ নামের বিশেষ কৃত্রিম সুগন্ধি ব্যবহার করা হয়েছে, যা মানুষের ত্বকের প্রাকৃতিক ঘ্রাণের অনুকরণ করে। এতে ল্যাকটিক অ্যাসিড, অ্যামোনিয়া ও ফ্যাটি অ্যাসিডের গন্ধ ছড়িয়ে মশাকে আকৃষ্ট করা হয়। মশা ফাঁদের কালো প্রবেশপথের দিকে উড়ে এলে ভেতরে থাকা সাকশন পাখা সেটিকে টেনে বিশেষ নেট ব্যাগে আটকে ফেলে। বিদ্যুৎ চলে গেলেও এর স্বয়ংক্রিয় শাটার বন্ধ হয়ে যায়, ফলে মশা পালাতে পারে না।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল, কুর্মিটোলা জেনারেল ও ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে ৬টি করে ফাঁদ বসানো হবে। এছাড়া সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী ও উত্তরা আধুনিক মেডিকেলে ৪টি করে এবং মনসুর আলী মেডিকেল, ডা. এম আর খান শিশু হাসপাতাল ও আলোক হাসপাতালে ৩টি করে ফাঁদ বসানো হবে। ডিএনসিসির প্রধান কার্যালয়েও (নগর ভবন) বসবে ৪টি ফাঁদ।
তবে এই ফাঁদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার। তিনি জানান, বিজি সেন্টিনেল ট্র্যাপ মূলত মশা নিধনের নয়, বরং উপস্থিতি ও ঘনত্ব পর্যবেক্ষণের বৈজ্ঞানিক উপকরণ। ব্যাপকভাবে মশা নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা সীমিত। আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের এসব বিদেশি ফাঁদের বদলে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ডেন-এক্স ট্র্যাপ’ বা থিংক ল্যাবসের তৈরি মশা মারার ফাঁদগুলো পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের পরামর্শ দেন এই বিশেষজ্ঞ।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












