বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের জেরে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ ঘটনার ব্যাখ্যা দেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সম্পূরক প্রশ্ন করার সময় হাসনাতের একটি মন্তব্যের জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তীব্র বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এমনকি তিনি ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত সেখানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কোনো কর্মসূচি হতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আজ ফেসবুকে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন এই সংসদ সদস্য।
ফেসবুক পোস্টে এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ যেসব বিষয় তুলে ধরেছেন:
হাসনাত জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা বা সিনেমা নিষিদ্ধের মতো। হাসনাতের মতে, এর মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় স্থানীয় আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। কনসার্ট বন্ধের প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, গভীর রাতে উচ্চশব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীরা শুধু সাউন্ড কমাতে বলেছিল, কনসার্ট বন্ধ করেনি। উল্টো পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
নৌকাবাইচ বন্ধের স্থানটি মূলত ‘সিলেট’ হলেও সংসদে ভুলবশত তিনি ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ বলে ফেলেছিলেন। এই তথ্যগত ত্রুটির কারণে সৃষ্ট বিব্রতকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন। সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে সংসদে তিনি মিডিয়ার ফ্রেমিং নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যার সুযোগ পাননি বলেও উল্লেখ করেন।
হাসনাত পুনর্ব্যক্ত করেন, তিনি এবং তার দল ‘জুলাইয়ের আদর্শ’ ধারণ করেন। এই আদর্শ এমন এক সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সবার অধিকার নিশ্চিত হবে এবং কেউ কারও ওপর নিজের মত চাপিয়ে দেবে না। তিনি লেখেন, “এই বাংলাদেশ সবার—এই বাংলাদেশে মসজিদ থাকবে, মন্দির থাকবে, সঙ্গীত থাকবে, ওয়াজ থাকবে, মাজার থাকবে, কনসার্ট হবে, মাহফিল হবে, রথযাত্রা হবে, সিনেমা উৎসব হবে।” সরকার যখন সবার সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তখনই আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে—সংসদে তিনি মূলত এই কথাটিই বোঝাতে চেয়েছিলেন।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












