স্পোর্টস ডেস্ক
ঢাকা: জমুল হোসেন শান্ত চেয়েছিলেন ডারউইনে তার দলের খেলোয়াড়রা পাঁচ দিন ভালো খেলুক। তবে তার চাওয়াকেও ছাপিয়ে গেছে বাংলাদেশ। মাত্র চার দিনেই, ১১তম সেশনে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়ল তারা। ব্যাটে-বলে নিখুঁত পারফরম্যান্সের প্রদর্শনী করে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের মাটিতেই ৯ উইকেটের এই দাপুটে জয় তুলে নিল টাইগাররা।
নতুন অধ্যায়ের সূচনা টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরে থাকা দলের কাছে শীর্ষ দল অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই ফল হজম করা কঠিন হলেও, বাংলাদেশের জন্য এই অর্জন বহুদিন উপভোগ করার মতো। অস্ট্রেলিয়ার ডেরায় টেস্ট জয় এমনিতেই অনেক কঠিন। তার ওপর স্বাগতিকদের দুর্দান্ত প্রস্তুতি এবং মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডদের মতো বোলার—যাদের প্রত্যেকের ৩০০-এর বেশি টেস্ট উইকেট রয়েছে, তাদের বিপক্ষে এমন সাফল্য পাওয়া সত্যিই অসাধারণ। এই জয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে রচিত হলো এক নতুন অধ্যায়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একটি টেস্ট জয়ের জন্য দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা পুরোপুরি সার্থক হলো। এই জয়ে ২ ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
পেসারদের দাপট ও ঐতিহাসিক লিড ২৩ বছর আগে ডারউইন ও কেয়ার্নসে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে প্রথম দিনেই পেসাররা যেভাবে বুলডোজার চালালেন, তাতেই এক অবিস্মরণীয় জয়ের ভিত তৈরি হয়ে যায়।
ম্যাচের প্রথম ইনিংসে দুই সেশনেরও বেশি সময় অপ্রত্যাশিতভাবে বাংলাদেশের বোলারদের দাপট চলে, অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় দুইশ রানের আগেই। এরপর ব্যাটিংয়েও চলে বাংলাদেশের দাপট। তানজিদ হাসান তামিম ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি করেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজও হাফ সেঞ্চুরি দিয়ে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেন। এই তিন ব্যাটারের অনবদ্য ব্যাটিং এবং টেল এন্ডারদের অবদানে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড নেয়, যা বিদেশের মাটিতে তাদের সর্বোচ্চ।
দ্বিতীয় ইনিংসে মিরাজের ঘূর্ণি জাদু ও সহজ লক্ষ্য দ্বিতীয় ইনিংসে বড় চাপের মুখে ব্যাট করতে নেমেও স্বস্তিতে ছিল না অস্ট্রেলিয়া। হাসান মাহমুদ জোড়া আঘাতে তাদের চেপে ধরেন। স্টিভ স্মিথ এবং ক্যামেরন গ্রিন (প্রথম সেঞ্চুরি) কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও, বল হাতে মেহেদী হাসান মিরাজ তার ঘূর্ণি জাদু দেখান। ফলে অস্ট্রেলিয়ার লিড খুব বেশি বড় হতে পারেনি এবং বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।
নায়কোচিত জয় প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ দ্বিতীয় ইনিংসে রান না পেলেও বিপদ বাড়তে দেননি সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার দুঃস্মৃতি পেছনে ফেলে ৫৭ রানের লক্ষ্য অনায়াসেই তাড়া করে বাংলাদেশ। ১৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বেউ ওয়েবস্টারকে চার মেরে মুমিনুল হক দলের জয় নিশ্চিত করেন। সাদমানের সঙ্গে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে মুমিনুল অপরাজিত ছিলেন ৩০ রানে এবং সাদমান টিকে ছিলেন ২৫ রানে।
দুই ইনিংস মিলিয়ে দুর্দান্ত বোলিং করে ৯ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন পেসার হাসান মাহমুদ।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ











