স্পোর্টস ডেস্ক
ঢাকা: ভারতের ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) ক্লাব জামশেদপুর এফসি বিক্রি করে দিয়েছে টাটা স্টিল। শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়। গোয়াভিত্তিক ক্লাব চার্চিল ব্রাদার্সের কাছে সম্পূর্ণ মালিকানা হস্তান্তর করা হয়েছে একেবারে নামমাত্র মূল্যে। শীর্ষ লিগ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার কয়েকদিনের মাথাতেই এই সিদ্ধান্ত নিল টাটা স্টিল।
টাটা স্টিলের পরিচালনা কমিটি চার্চিল ব্রাদার্স স্পোর্টস ক্লাব প্রাইভেট লিমিটেডের কাছে তাদের শতভাগ মালিকানা হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়েছে। চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, এই লেনদেনের মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র ১০০ রুপি, যা প্রায় ১ দশমিক ০৫ ডলারের সমান। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই আইএসএল ক্লাবের দাম দাঁড়াচ্ছে মোটে ১২৮ টাকা!
এই চুক্তির ফলে চার্চিল ব্রাদার্স এখন থেকে আইএসএলে জামশেদপুরের অংশগ্রহণের অধিকার পাবে। ক্লাবের ১২ জন খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফের দুই সদস্যের চুক্তিও নিজেদের অধীনে নেবে চার্চিল ব্রাদার্স। টাটা স্টিল জানিয়েছে, এই হস্তান্তরের ফলে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি এখন থেকে তৃণমূল ও যুব পর্যায়ের ফুটবলে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।
আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর জন্য অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
চলতি মাসের শুরুতে ক্লাব বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন জামশেদপুরের খেলোয়াড়রা। গত মৌসুমেই সুপার কাপ জিতেছিল ক্লাবটি। প্রিয় ক্লাবটি চালু রাখার দাবিতে সমর্থকরাও রাস্তায় নেমে ভারতের সবচেয়ে বড় শিল্পগোষ্ঠী টাটা গ্রুপের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন।
তবে টাটা স্টিল জানায়, চার্চিল ব্রাদার্সের শক্তিশালী রেকর্ড দেখেই তাদের কাছে ক্লাব বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ক্লাবটি এর আগে দুইবার জাতীয় লিগ শিরোপা জিতেছে। টাটা স্টিলের সহ-সভাপতি ডি বি সুন্দর রামম বলেন, ‘চার্চিল ব্রাদার্স ভারতীয় ফুটবলে সত্যিকারের ইতিহাসসমৃদ্ধ একটি ক্লাব।’
আগামী মাসে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ মৌসুমের আইএসএল। স্বাভাবিক হোম-অ্যাওয়ে ফরম্যাটেই অনুষ্ঠিত হবে এই মৌসুম। ২০১৪ সালে সাবেক ইতালিয়ান তারকা আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরোসহ বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক তারকার সহায়তায় ভারতীয় ফুটবলে নতুন প্রাণ সঞ্চারের উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছিল আইএসএল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন আয়োজকরা। ধীরে ধীরে কমছে টেলিভিশন দর্শক, পাশাপাশি স্পন্সরদের আগ্রহেও ভাটা পড়েছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ









