আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: গত শুক্রবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে ন্যাটোর আদলে একটি ঐতিহাসিক সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ‘মক্কা চুক্তি’ নামের এই সমঝোতায় বলা হয়েছে, এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর অন্য কোনো দেশের হামলা হলে, তা জোটের সবার ওপর হামলা হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। সুন্নি অধ্যুষিত তিন প্রভাবশালী মুসলিম দেশের এই সামরিক জোটকে বিশ্ব রাজনীতির নতুন মেরুকরণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এই চুক্তির পর স্বাভাবিকভাবেই প্রতিবেশী দেশ ভারতে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের ওপর কোনো হামলা হলে তুরস্ক ও সৌদি আরব সেটিকে নিজেদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করবে—এমন স্পর্শকাতর প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান কী, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের কাছে প্রশ্ন রাখেন এক সাংবাদিক।
জবাবে ভারতীয় এই কূটনীতিক স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত। তিনি বলেন, “এই চুক্তির প্রভাব ভারতের জাতীয় স্বার্থ এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর কতটা পড়বে, তা আমরা গভীরভাবে পর্যালোচনা করছি। ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই আমরা অব্যাহত রাখব।”
অন্যদিকে, তুরস্কের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই চুক্তিটি সম্পূর্ণ রক্ষণাত্মক। কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে এটি করা হয়নি। বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই ‘মক্কা চুক্তি’র মূল উদ্দেশ্য।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে দেশ তিনটির সম্মিলিত শক্তি এক অনন্য মাত্রা পেয়েছে। কারণ, এই জোটে পাকিস্তানের রয়েছে পারমাণবিক সক্ষমতা, তুরস্কের আছে বিশাল সামরিক বাহিনী ও অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র এবং সৌদি আরবের রয়েছে বিপুল অর্থনৈতিক প্রাচুর্য ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। উল্লেখ্য, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরবের কাছেই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি যুদ্ধবিমান রয়েছে। এই ত্রিমাত্রিক শক্তির মেলবন্ধন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












