আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: পশ্চিম কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ধসে পড়া ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকারীদের তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫৪ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। মূল ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে এরই মধ্যে ৭০ বারের বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নতুন করে কম্পন ও প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভূমিকম্পের এক দিন পর, ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধার এবং মরদেহ বের করে আনতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নিহত ২৫৪ জনের বেশির ভাগই পেরেইরা এবং ক্যালি শহরের বাসিন্দা। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয়ের (ওচা) তথ্যমতে, ভূমিকম্পে প্রায় ৫ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে, যার অধিকাংশই আবাসিক।
স্থানীয় সরকারের পরিসংখ্যান বলছে, কলম্বিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর ক্যালিতে অন্তত ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪৫টি স্থাপনা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধসে পড়েছে। সোমবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে যখন ভূমিকম্পটি আঘাত হানে, সে মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে ক্যালি শহরের ২২ বছর বয়সি সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী লুইস সায়েঞ্জ বলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছিল এই কম্পন যেন আর থামবেই না।’ সকালের কফি পান করার সময় আসা আকস্মিক এই দুর্যোগে পোষা বিড়ালটি ভয়ে খাটের নিচে লুকিয়ে পড়ে এবং এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি রাস্তায় বেরিয়ে আসেন বলে জানান।
শহরের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত সাত তলাবিশিষ্ট ‘ভ্যানেসা’ ভবনে চলা উদ্ধারকাজ দেখতে দেখতে স্থানীয় বাসিন্দা মারিয়া ইসাবেল কুম্বাল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি কখনোই ভাবিনি যে আমার শহরকে এমন অবস্থায় দেখতে হবে।’ সোমবারের ভূমিকম্পে এই আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এর নিচে আটকে পড়া আনুমানিক ২০ জনকে উদ্ধারের আশায় উদ্ধারকারীরা এখন হাতুড়ি, বেলচা এবং ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে কংক্রিটের পুরু স্তর সরিয়ে ফেলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি ধসে পড়া বাসভবন ও এর আশপাশে শত শত স্বেচ্ছাসেবী মানবশৃঙ্খল তৈরি করে রাবিশ সরিয়ে ডাম্প ট্রাকে ফেলার কাজে সহায়তা করছেন। রুদ্ধশ্বাস এই উদ্ধার অভিযানের মাঝেমধ্যেই উদ্ধারকারীদের কেউ একজন মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচু করে সবাইকে চুপ থাকার নির্দেশ দিচ্ছেন, যাতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কোনো জীবনের স্পন্দন বা সাড়া পাওয়া যায় কি না, তা কান পেতে শোনা যায়।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












