বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পর এবার রাজধানীর ঢাকা কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিবিরের অন্তত ২০ জন এবং ছাত্রদলের ৭ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ঢাকা কলেজের ২ নম্বর গ্যালারিতে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। জানা যায়, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনার আয়োজন করেছিল কলেজ শাখা ছাত্রশিবির। শিবিরের অভিযোগ, এই অনুষ্ঠানের সাজসজ্জা ও ব্যানার টানানোর সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন নেতাকর্মী অতর্কিত হামলা চালায়। এতে শিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেক মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং তাকে চিকিৎসার জন্য পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অন্যদিকে, ছাত্রদলের কর্মী রাসেলের দাবি, সকালে শিবিরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে ছাত্রদল কর্মীদের উসকানিমূলক কথাবার্তা বলে এবং একজনকে মারধর করে। এই খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একত্র হয়ে মিছিল বের করেন। একপর্যায়ে শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে ধাওয়া দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়।
এদিকে, একই দিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও (জবি) ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জবিতে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ শুরুসহ বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে গেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ও জিএস আব্দুল আলিম আরিফসহ সাংবাদিক এবং অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে মারধর করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছে ছাত্রদল। হামলার সময় জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে তাদের ফোনে না পাওয়া গেলেও জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার হোসেন দাবি করেন, ছাত্রশিবির ও জকসু প্রতিনিধিরা পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং নিজেরাই নিজেদের প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে উল্টো ছাত্রদলের ওপর দায় চাপাচ্ছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ











