বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: সাপের প্রতি মানুষের ভয় নতুন নয়। সভ্যতার ইতিহাস, পুরাণ, ধর্মীয় কাহিনি কিংবা লোকবিশ্বাস—সবখানেই সাপকে ঘিরে রহস্য, ভীতি ও কৌতূহলের গল্প ছড়িয়ে আছে। কোথাও সাপকে প্রলোভনের প্রতীক, কোথাও মৃত্যুর দূত, আবার কোথাও শক্তি ও পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু ভয় ও কুসংস্কারের আড়ালে চাপা পড়ে যায় প্রকৃতির সবচেয়ে বড় সত্য—প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সাপের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সেই সত্যটিই নতুন করে মনে করিয়ে দিতে প্রতিবছর ১৬ জুলাই পালিত হয় ‘বিশ্ব সাপ দিবস’। দিনটির মূল উদ্দেশ্য হলো সাপ সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণা দূর করা, এই প্রাণীটির প্রতি সচেতনতা বাড়ানো এবং সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা।
অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সব মহাদেশেই সাপের দেখা মেলে। ঘন অরণ্য, মরুভূমি, তৃণভূমি, পাহাড়, জলাভূমি, সমুদ্রসহ প্রকৃতির প্রায় প্রতিটি পরিবেশেই তারা নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে। এমনকি মানুষের বসতবাড়ির আশপাশেও অনেক প্রজাতির সাপ বাস করে। এ পর্যন্ত বিশ্বে সাড়ে তিন হাজারের বেশি প্রজাতির সাপের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মাত্র ৬০০ প্রজাতি বিষধর এবং মানুষের জীবনের জন্য সত্যিকার অর্থে ঝুঁকিপূর্ণ প্রজাতির সংখ্যা দুই শতাধিক। অর্থাৎ, অধিকাংশ সাপই মানুষের জন্য প্রাণঘাতী নয়। সাপ প্রকৃতির অন্যতম দক্ষ শিকারি। অন্য প্রাণীর মতো তারা খাবার চিবিয়ে খায় না; চোয়ালের বিশেষ গঠনে বড় শিকারকে সম্পূর্ণ গিলে ফেলতে পারে। শীতল রক্তের প্রাণী হওয়ায় শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য তারা প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল এবং বছরে সাধারণত তিন থেকে ছয়বার তারা পুরোনো চামড়া বদলে নতুন আবরণ ধারণ করে।
সাপকে অনেকেই আক্রমণাত্মক প্রাণী মনে করলেও বাস্তবে অধিকাংশ সাপই মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে চায়। শিকার ধরতে বা জীবন হুমকির মুখে পড়লেই কেবল তারা আক্রমণ করে। আত্মরক্ষার জন্য কেউ পরিবেশের সঙ্গে মিশে যায়, কেউ শরীর গুটিয়ে নেয়, আবার বিষধর প্রজাতিগুলো প্রয়োজনে বিষ প্রয়োগ করে। বিশ্বের সবচেয়ে ছোট সাপ বার্বাডোস থ্রেড স্নেক (দৈর্ঘ্যে মাত্র চার ইঞ্চি), সবচেয়ে দীর্ঘ রেটিকুলেটেড পাইথন এবং সবচেয়ে ভারী সাপ গ্রিন অ্যানাকোন্ডা। আর বিষধর সাপের মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড় কিং কোবরা। সাপকে ঘিরে ‘অ্যানাকোন্ডা’, ‘স্নেকস অন আ প্লেন’ কিংবা ‘হ্যারি পটার’-এর মতো অনেক জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে, যেখানে মূলত ভয় ও রহস্যকেই তুলে ধরা হয়েছে।
তবে বাস্তবে কৃষকের খেতের ইঁদুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে খাদ্যশৃঙ্খলের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রকৃতিতে সাপের অবদান অপরিসীম। বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস ও খাদ্য সংকটের কারণে আজ বহু প্রজাতির সাপ বিপন্ন। এরা না থাকলে অনেক ক্ষতিকর প্রাণীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো বাস্তুতন্ত্র, কৃষি ও পরিবেশের ওপর।
বাংলাফ্লো/এফআইআর











