আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার স্লোগান উঠেছে। রোববার (৫ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে খামেনির কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে এই প্রতিশোধের আহ্বান জানানো হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন। যুদ্ধের কারণে দাফন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার পর এখন ইরানজুড়ে তার সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও জানাজার আয়োজন চলছে। দ্য গার্ডিয়ানের সূত্রমতে, রোববারের এই বিশাল জানাজা মূলত ইরানের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও প্রতিরোধের শক্তির কঠোর বার্তা দিয়েছে।
গ্র্যান্ড মোসাল্লায় অনুষ্ঠিত এই জানাজা শোকের পাশাপাশি প্রতিশোধের আবেগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জানাজা পড়ান কোম শহরের ৯৭ বছর বয়সী প্রবীণ আলেম আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। খামেনির সঙ্গে তার পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল এবং মাত্র ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়েগানিসহ পরিবারের আরও তিন সদস্যের জানাজা হয়। শিশুটির ছোট কফিন দেখে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। জানাজা শুরুর আগে কবি মোহাম্মদ রাসুলি এক কবিতায় বলেন, “এখন থেকে কাফনের কাপড়ই আমাদের পোশাক। আপনার রক্তের কসম, ট্রাম্পকে হত্যা করা এখন আমাদের দায়িত্ব।” তার বক্তব্যের পর উপস্থিত হাজারো জনতা তুমুল করতালি দিয়ে সমর্থন জানায়। চারদিকে স্লোগান ওঠে, কোনো আপস নয়, কোনো আত্মসমর্পণ নয়, শুধু প্রতিশোধ। অনেকের হাতে ‘কিল ট্রাম্প’ লেখা বার্তাও দেখা যায়।
বাবার মৃত্যুর পর নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত মোজতবা খামেনিকে জানাজায় দেখা যায়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধের সময় মোজতবা আহত হয়েছিলেন, তবে স্থায়ী কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে তার তিন ভাই মুস্তফা, মাসুদ ও মেসাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আল-কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানি, আইআরজিসি কমান্ডার আহমদ ওয়াহিদিসহ দেশের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলকাদর জানান, জনগণ এখন শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং শহীদ নেতার রক্তের প্রতিশোধের স্লোগান দিচ্ছে। কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ সোমবার তেহরানে বিশাল শোকমিছিল শেষে খামেনির মরদেহ কোম এবং ইরাকের পবিত্র শহরগুলো ঘুরিয়ে মাশহাদে দাফন করা হবে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






