আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় জানাজা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘ভয়াবহভাবে আঘাত করেছে’ এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য দেশটিকে ‘এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে’। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে মাউন্ট রাশমোরের কাছে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, তারা একদিনেই ভেনেজুয়েলাকে হারিয়েছে এবং ইরানকে ভয়াবহভাবে আঘাত করেছে, ফলে তারা এখন সমঝোতার জন্য মরিয়া। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা তাদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছি, কারণ আমরা ভালো মানুষ।’ উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় আলি খামেনি নিহত হন, যার মধ্য দিয়েই মূলত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাফন সম্পন্ন করার বিধান থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বিলম্বিত হয়।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি স্বাক্ষরের পরও মধ্যপ্রাচ্যে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা গোলাগুলির ঘটনায় যুদ্ধবিরতি নাজুক অবস্থায় পৌঁছালেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংঘর্ষের মাত্রা কিছুটা কমেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইরান ৪ জুলাই থেকে খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা কর্মসূচি শুরু করেছে। ছয় দিনের এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৭ জুলাই কোম শহরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং ৯ জুলাই তার জন্মস্থান উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শহর মাশহাদে দাফনের মাধ্যমে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে। জানাজা উপলক্ষে তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে খামেনির ছবি সংবলিত পোস্টার ও বিলবোর্ড টানানো হয়েছে এবং গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ট্রাম্পবিরোধী স্লোগানসংবলিত ব্যানারও দেখা গেছে।
এদিকে, ভারতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহির বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে আলি খামেনির ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার বাবার শেষকৃত্যে প্রকাশ্যে অংশ নেবেন না। ইসরায়েলের হুমকি ও নজরদারির ঝুঁকির কারণে মোজতবার প্রকাশ্যে উপস্থিতি বিপজ্জনক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া, শেষকৃত্যের এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যে আলি খামেনির কফিনের পাশেই রাখা হয়েছে তার ১৪ মাস বয়সি নাতনির ছোট একটি কফিন, যে ওই একই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় নিহত হয়েছিল। হামলায় নিহত খামেনির পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের মরদেহও তার কফিনের পাশে রাখা হয়েছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






