স্পোর্টস ডেস্ক
ঢাকা: দারুণ এক প্রত্যাবর্তনের দৃষ্টান্ত তৈরি করে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সেলেসাওরা। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে গড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির ৯৬তম মিনিটের চমকে জাপানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে শেষ ৩২-এর ম্যাচ জিতেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
প্রথমার্ধ ছিল ব্রাজিলের জন্য চরম হতাশার। ম্যাচের ২৯ মিনিটে হাইড্রেশন ব্রেকের পরপরই গোল হজম করে তারা। মাঝমাঠে দানিলোর কাছ থেকে লুজ বল পেয়ে কাসেমিরোকে গতিতে পরাস্ত করে দ্রুত এগিয়ে যান জাপানের সানো। এরপর বক্সের বাইরে থেকে তাঁর নেওয়া নিখুঁত ডান পায়ের শট পোস্টের নিচের বাঁ কোণ দিয়ে জালে জড়ায়। অথচ এই গোলের আগ পর্যন্ত প্রায় ৭৫ শতাংশ বল দখলে রেখেও স্কোরলাইনে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি ব্রাজিল। উল্টো প্রথমার্ধের শেষ দিকে রিতসু দোয়ান ও হিরোকি ইতোরা ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে বারবার পরীক্ষায় ফেলেছেন।
এক গোলে পিছিয়ে থাকা ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় দ্বিতীয়ার্ধে দলে পরিবর্তন আনে। লুকাস পাকেতার বদলে মাঠে নামানো হয় তরুণ তারকা এন্দ্রিককে। বিরতির পর ব্রাজিল চেনা ছন্দে ফেরে এবং আক্রমণের ধার বাড়ায়। ৫২ ও ৫৫ মিনিটে গিমারেস এবং কাসেমিরোর দুটি দারুণ প্রচেষ্টা জাপানি গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় ব্যর্থ হয়। তবে ৫৬ মিনিটে আর হতাশ হতে হয়নি; গোলপোস্টের কাছ থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল শোধ করে দলকে সমতায় ফেরান কাসেমিরো। এর ঠিক ৩ মিনিট পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি একক প্রচেষ্টার শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারায় ব্রাজিল।
ম্যাচটি যখন নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ইনজুরি টাইমের ৬ মিনিটের একেবারে শেষ মুহূর্তে বক্সের ঠিক বাইরে বিপজ্জনক জায়গায় জাপানের তানাকা বলের নিয়ন্ত্রণ হারান। সুযোগ বুঝে ব্রুনো গিমারায়েস বলটি পেয়ে মার্তিনেল্লির উদ্দেশ্যে একটি নিখুঁত থ্রু পাস বাড়ান। চোখের পলকে বলটি নিজের বাঁ পা থেকে ডান পায়ে নিয়ে নেন মার্তিনেল্লি এবং গোলরক্ষক সুজুকিকে পরাস্ত করে জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে ব্রাজিলের অবিস্মরণীয় জয় নিশ্চিত করেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর



