বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: জামালপুর জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় জেলার শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার মোট ১ হাজার ১৬৪টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৭৩টিতেই (প্রায় ৪১ শতাংশ) কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। এর পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের ২৯৮টি পদও শূন্য রয়েছে। ফলে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দিয়ে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাজ চালাতে গিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলাওয়ারী পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষকের পদ সবচেয়ে বেশি শূন্য সদর উপজেলায় (১০১টি)। এছাড়া মাদারগঞ্জে ৮৭টি, ইসলামপুরে ৬৯টি, সরিষাবাড়ীতে ৬৬টি, মেলান্দহে ৬১টি, দেওয়ানগঞ্জে ৪৫টি এবং বকশীগঞ্জে ৪৪টি পদ শূন্য রয়েছে। শহরের বেলটিয়া পুলিশ লাইনস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র আরও ভয়াবহ; সেখানে ১৯৯৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। ছয়জন শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন। এই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুরাফিয়া আক্তার এবং খুপীবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মান্নান চৌধুরী জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে একাধিক শ্রেণির ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজ একা সামলাতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঠিক পাঠদান কঠিন হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, ২০১৪ সালে প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা ঘোষণার পর থেকে বিভাগীয় পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়াই এই সংকটের মূল কারণ। ২০১৮ সালে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ২০১ জন সহকারী শিক্ষককে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হলেও তা স্থায়ী সমাধান বয়ে আনেনি। সচেতন নাগরিক কমিটির (সুজন) জেলা সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী সতর্ক করে বলেন, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির ব্যবস্থা না করলে সরকারি স্কুলের প্রতি অভিভাবকদের আস্থা কমে যাবে এবং শিক্ষার্থীরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকবে।
সার্বিক বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহসান জানান, সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির বিষয়ে শিগগিরই একটি সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে বিভিন্ন জেলায় শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ মামলার কারণে পুরো নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হচ্ছে। মামলা নিষ্পত্তি হলেই শূন্য পদ পূরণের পথ সুগম হবে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






