বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিরীহ নাগরিক হত্যাকে অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সুস্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আত্মরক্ষার অজুহাতে সীমান্তে বিএসএফের মারণাস্ত্র ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে জবাবদিহিতা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও ভারতের কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। বুধবার (১৭ জুন) সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি ও মোহাম্মদ আব্দুল মালেকের পৃথক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকগুলোতে সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিষয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি আর্থিক সহায়তার বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা না হলেও, প্রাণঘাতী অস্ত্রের বদলে ‘নন-লেথাল’ বা প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহারের জন্য ভারতের ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে। এর পাশাপাশি একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বিএসএফ অন্তত ৩৬ বার পুশ-ইনের চেষ্টা চালিয়েছিল, যা অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে প্রতিহত করেছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)।
সীমান্ত সুরক্ষায় বর্তমান সরকারের নেওয়া আধুনিক ও কঠোর পদক্ষেপের কথাও উঠে আসে মন্ত্রীর বক্তব্যে। তিনি জানান, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে বিজিবি ও বিএসএফের যৌথ নৈশ টহল বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে কোম্পানি বা ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে তাৎক্ষণিক পতাকা বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও নদীপথে চোরাচালান, মাদক পাচার বা পুশ-ইন ঠেকাতে এখন ড্রোন, থার্মাল ইমেজার, নাইট ভিশন ডিভাইস এবং সিসিটিভির মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে ‘উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে সাধারণ মানুষের চলাচলও সীমিত করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদকে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত বিএসএফ মোট ২ হাজার ৩৬৯ জনকে পুশ-ইন করেছে। এর মধ্যে ২ হাজার ১৭৫ জনকে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে, ১১ জনকে বিএসএফের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং ১৮৩ জনকে সফলভাবে পুশ-ব্যাক করা হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ‘বর্ডার কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপ’ গঠন করে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজও জোরকদমে চলছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






