আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: অবৈধ অভিবাসন ও পুশইন নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সীমান্তে যৌথ সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। শুক্রবার (১২ জুন) বিজিবি ও বিএসএফের এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, সীমান্তে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বাড়ানো এবং সমন্বিত টহল কার্যক্রম শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী বিজিবি-বিএসএফ শীর্ষ বৈঠকে উভয় পক্ষ এই সমঝোতায় পৌঁছায়।
সাম্প্রতিক সময়ে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অভিবাসীদের সীমান্তে পুশইনের অভিযোগ করে আসছে বাংলাদেশ। গত বছরের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই এই ইস্যুটি নতুন করে জটিলতা তৈরি করেছে। এর ওপর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর রাজ্য সরকার ‘শনাক্ত, তালিকা থেকে বাদ এবং বহিষ্কার’ নীতি হাতে নেওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তের ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামে ক্ষমতাসীন বিজেপি অবৈধ অভিবাসন নিয়ে বরাবরই সোচ্চার। তাদের অভিযোগ, বহু বাংলাদেশি মুসলিম ভারতে অবৈধভাবে বসবাস করছেন, যাদের ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। অন্যদিকে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধের অনুরোধ জানিয়ে ভারতকে ইতিমধ্যে এক ডজনের বেশি চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ।
বিজিবি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সীমান্তে বেশ কয়েকটি পুশইনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং ড্রোন নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর আগে চলতি সপ্তাহে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ এবং এটি দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অন্যদিকে, গত মাসে ভারত জানিয়েছে, অবৈধভাবে বসবাসকারী ২ হাজার ৮৬০ জনের বেশি সন্দেহভাজনের জাতীয়তা যাচাইয়ের জন্য ঢাকার কাছে অনুরোধ করা হয়েছে।
নয়াদিল্লির এই শীর্ষ বৈঠককে দুই দেশের কর্মকর্তারাই ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ, ইতিবাচক এবং ভবিষ্যৎমুখী’ বলে উল্লেখ করেছেন। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্মেলনে মানবপাচার, সীমান্তে প্রাণহানি, চোরাচালান এবং সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে উভয় পক্ষ সমন্বিত টহল বৃদ্ধি, নজরদারি জোরদার এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান বাড়াতে একমত হয়েছে। আগামী নভেম্বরে ঢাকায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






