আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে (প্রতিনিধি পরিষদ) ইরানের সঙ্গে যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার রেজল্যুশন পাস হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই রেজল্যুশনকে ‘নিরর্থক’ ও ‘দেশপ্রেমহীন’ আখ্যা দিয়ে তিনি নিজ দলের চার এমপিরও কঠোর সমালোচনা করেছেন, যারা বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার ডেমোক্রেটিক পার্টির উত্থাপিত এই বিলটি ২১৫-২০৮ ভোটে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়। বিলটিতে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সেনাদের অবস্থান অব্যাহত রাখতে কংগ্রেসের পূর্বানুমোদন লাগবে। অন্যথায়, অনুমোদনের আগ পর্যন্ত মোতায়েনকৃত সব মার্কিন সেনাকে প্রত্যাহার করে আনতে হবে। বিরোধী দলের এই বিলের পক্ষে ভোট দেওয়া চার রিপাবলিকান এমপি হলেন—মিশিগানের টম ব্যারেট, ওহাইওর ডেভিডসন, পেনসিলভেনিয়ার ফিটজপ্যাট্রিক এবং কেন্টাকির টমাস ম্যাসি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প বলেন, “আমার যুদ্ধ সংক্রান্ত ক্ষমতা সীমিত করতেই এই রেজল্যুশন আনা হয়েছে—তাও এমন এক সময়ে, যখন আমরা ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরানের সঙ্গে যুদ্ধাবসান সংক্রান্ত আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি।” ডেমোক্র্যাটদের ‘ট্রাম্প-বিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তারা আরও একটি বিজয়ের চেয়ে দেশের ব্যর্থতাকেই শ্রেয় মনে করে। অন্যদিকে, দলের চার এমপির কড়া সমালোচনা করে তিনি লেখেন, “তারা শুধু লোক দেখানো কাজ করে! তাদের নিজেদেরই লজ্জিত হওয়া উচিত।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য গ্রেগরি মিকস রয়টার্সকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী কংগ্রেসের অনুমোদন ব্যতীত প্রেসিডেন্ট কোনো যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারবেন না। কিন্তু ইরান যুদ্ধ ঘোষণার আগে কংগ্রেসের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো প্রকার আলোচনাই করেননি ট্রাম্প প্রশাসন।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। পরবর্তীতে গত ৮ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও স্থায়ী শান্তিচুক্তির বিষয়ে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তবে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া এই রেজল্যুশনটি এখনই কার্যকর হচ্ছে না; এটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হতে হলে এখন উচ্চকক্ষ সিনেটেও আলোচনা ও বিতর্কের পর পাস হতে হবে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর





