বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: মুম্বাইয়ের অভিজাত এলাকা বান্দ্রায় নিজের বাসভবনে উগ্র ও উত্তেজিত জনতার (মব) ভয়াবহ হামলার মুখে পড়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী রাবিনা ট্যান্ডন। দীর্ঘ দিন পর সেই শিউরে ওঠা রাতের রোমহর্ষক ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনলেন এই নব্বই দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রাবিনা জানান, ২০২৪ সালের জুনে নিজের বাড়িতেই এমন হিংস্র মবের শিকার হতে হয়েছিল তাঁকে। প্রায় ৩০ জন পুরুষ তাঁর বাড়ি ঘেরাও করে ভাঙচুর চালায় এবং টাকা-পয়সা লুটের চেষ্টা করেছিল। সে সময় পরিবারের সুরক্ষায় তিনি কোনো পুরুষ সদস্যের সাহায্য ছাড়াই নিজেই সিংহীর মতো সামনে এসে দাঁড়ান এবং উশৃঙ্খল পরিস্থিতি সামাল দেন।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে রাবিনা জানান, অভিনেত্রীর গাড়ি দিয়ে এক নারীকে ধাক্কা দেওয়ার একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও মিথ্যা অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঘটনার নাটকীয়তা তৈরি করা হয়। একদল স্থানীয় লোক চেয়েছিল এই দুর্ঘটনায় রাবিনাকে আইনি ও সামাজিকভাবে অভিযুক্ত করতে।
অভিনেত্রীর দাবি, এমন একটি মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাঁর বান্দ্রার বাড়ির সামনে প্রায় ৩০ জন উত্তেজিত লোক জড়ো হয়ে চড়াও হয়। পরবর্তীতে পুলিশের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, অভিনেত্রীর গাড়িটি ওই নারীকে স্পর্শও করেনি। রাবিনা জোর দিয়ে বলেন, এটি মূলত তারকা খ্যাতিকে পুঁজি করে তাঁর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি পরিকল্পিত ও নোংরা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ছক ছিল।
সেই রাতের বিবরণ দিয়ে রাবিনা ট্যান্ডন বলেন:
“আমি পরিস্থিতি শান্ত করতে বাইরে বের হতেই ৩০ জন পুরুষ আমাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে এবং আমার গাড়িচালককে নির্মমভাবে মারধর করতে শুরু করে। আমি কোনোমতে চালককে টেনে বাঁচিয়ে বাড়ির ভেতরে নিয়ে আসি। এরপর এক উশৃঙ্খল ব্যক্তি জোরপূর্বক আমার বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়লে আমি নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে তার জামার কলার ধরে টেনে হিঁচড়ে বাইরে বের করে দিই।”
অভিনেত্রী আরও জানান, ওই সময় তাঁর স্বামী চলচ্চিত্র পরিবেশক অনিল থাডানি অফিসে ছিলেন এবং বাড়িতে শুধু তাঁদের সন্তানরা ছিল। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ও সুপরিকল্পিত ছিল যে, রাবিনা যাতে কোনোভাবেই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন, সেজন্য তাঁর হাত থেকে মুঠোফোনটিও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। বান্দ্রার মতো মুম্বাইয়ের একটি অতীব সুরক্ষিত ও ভিআইপি এলাকায় একজন প্রথম সারির অভিনেত্রীর সঙ্গে এমন ঘটনা সে সময় ভারতের তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছিল।
তবে ঘটনার পর মুম্বাই পুলিশ পুরো এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করে এক বিবৃতিতে জানায়, রাবিনা বা তাঁর গাড়িচালকের বিরুদ্ধে ওঠা পথ দুর্ঘটনার অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। এত দিন পর সেই ট্রমা কাটিয়ে উঠে রাবিনা নিজের সাহসিকতার গল্প ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করলেন।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ






