বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের (Netflix) ব্যানারে এক নতুন ধামাকা নিয়ে হাজির হচ্ছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের কনিষ্ঠ রাজপুত্র প্রিন্স হ্যারি এবং তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কেল। আফগানিস্তানে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর একটি রক্তক্ষয়ী সত্য অভিযান অবলম্বনে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ফিকশন চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে যাচ্ছেন এই তারকা দম্পতি। নেটফ্লিক্স নিশ্চিত করেছে, একটি জনপ্রিয় সত্য ঘটনাভিত্তিক আত্মজীবনীমূলক বই (Memoir) থেকে এই সিনেমাটি তৈরি করা হবে।
ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর মেজর অ্যাডাম জোয়েটের লেখা সাড়া জাগানো বেস্টসেলার বই ‘নো ওয়ে আউট: দ্য সিয়ারিং ট্রু স্টোরি অব মেন আন্ডার সিজ’ (No Way Out: The Searing True Story of Men Under Siege) অবলম্বনে নির্মিত হবে এই যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রটি।
২০০৬ সালের জুলাই মাসে আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশের মুসা কালা এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটেছিল। সেখানে তালেবানদের শক্ত ঘাঁটি ও আফিম চাষের জন্য পরিচিত অঞ্চলে অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ প্যারাট্রুপার এবং রয়্যাল আইরিশ রেঞ্জার্স নিয়ে গঠিত ‘ইজি কোম্পানি’র নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মেজর জোয়েট। শত্রুপক্ষে ঘেরা অবস্থায় টানা ২১ দিন ধরে তালেবানদের একের পর এক হামলা প্রতিহত করার এক চরম বীরত্বপূর্ণ, রোমহর্ষক ও মানবিক গল্প এতে তুলে ধরা হয়েছে।
ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে নেটফ্লিক্স জানিয়েছে, হ্যারি ও মেগান তাঁদের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘আর্চওয়েল প্রোডাকশনস’ (Archewell Productions)-এর স্ক্রিপ্টেড কনটেন্ট প্রধান ট্রেসি রায়ারসনের সঙ্গে যৌথভাবে এই সিনেমাটি প্রযোজনা করবেন।
সিনেমাটির বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে এর শক্তিশালী চিত্রনাট্য। অস্কার মনোনীত বিখ্যাত ব্রিটিশ চিত্রনাট্যকার ম্যাট চারম্যান এই ছবির স্ক্রিপ্ট লেখার দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া স্টিভেন স্পিলবার্গের সাড়া জাগানো সিনেমা ‘ব্রিজ অব স্পাইস’ (Bridge of Spies)-এর চিত্রনাট্য লিখে অস্কারে মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
২০২০ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজকীয় দায়িত্ব ত্যাগ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর পর নেটফ্লিক্সের সঙ্গে প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেন হ্যারি ও মেগান। যদিও তাঁদের প্রথম প্রামাণ্যচিত্র ‘হ্যারি অ্যান্ড মেগান’ বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল, তবে পরবর্তী জীবনমুখী শো ‘উইথ লাভ, মেগান’ তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল।
তবে এই নতুন প্রজেক্টটি হ্যারির জন্য অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও আবেগের। কারণ, রাজা চার্লসের কনিষ্ঠ পুত্র প্রিন্স হ্যারি নিজে একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সদস্য হয়ে আফগানিস্তানে দুটি ফ্রন্টলাইন যুদ্ধকালীন অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন এবং ‘ক্যাপ্টেন’ পদমর্যাদা লাভ করেছিলেন। ফলে আফগান যুদ্ধের বাস্তব প্রেক্ষাপটে নির্মিত হতে যাওয়া এই চলচ্চিত্রটি হ্যারির নিজস্ব সামরিক অভিজ্ঞতার গভীরতার কারণে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মধ্যে এক বাড়তি কৌতুহল ও উন্মাদনা সৃষ্টি করছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ






