আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ইরানি জাতির টানা ৭০ দিনের ‘বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ’ বিশ্বব্যবস্থায় এমন এক পরিবর্তন এনেছে যা গত এক শতাব্দীতেও দেখা যায়নি। এই প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই একমেরুকেন্দ্রিক আধিপত্যের অবসান ঘটে একটি নতুন ‘বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা’ (Multipolar World Order) সূচিত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেসটিভি’ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শনিবার (১৬ মে) তেহরানে এক উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় গালিবাফ বলেন, “বিশ্ব এখন এক নতুন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।”
বক্তব্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একটি বিখ্যাত কূটনৈতিক বক্তব্য উদ্ধৃত করে ইরানের স্পিকার বলেন, “শতাব্দীতে দেখা যায়নি এমন পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে দ্রুত এগিয়ে চলছে। আমি আজ জোর দিয়ে বলতে চাই, ইরানি জাতির বিগত ৭০ দিনের প্রতিরোধ এই পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।” তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে ঘোষণা করেন, “ভবিষ্যৎ এখন গ্লোবাল সাউথের (Global South)।”
গালিবাফের এই বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, উদীয়মান বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্ব গঠনে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানকে ইরান একটি ঐতিহাসিক টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছে। তাঁর দাবি, গত ৭০ দিনে ইরানি জনগণ অদম্য ঐক্য ও ‘বিপ্লবী চেতনা’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের সব পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দিয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের চাপ সৃষ্টি ও ভয় দেখানোর চেষ্টা মূলত মার্কিন নেতৃত্বাধীন একমেরুকেন্দ্রিক ব্যবস্থার চরম দুর্বলতাকেই বিশ্বমঞ্চে উন্মোচিত করেছে।
প্রেসটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানের এই প্রতিরোধ শুধু দেশটির সার্বভৌমত্বই রক্ষা করেনি, বরং লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার বহু উন্নয়নশীল দেশের কাছেও এক নতুন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। এসব দেশ এখন মনে করছে, নিষেধাজ্ঞা, সামরিক আগ্রাসন ও অর্থনৈতিক আধিপত্যনির্ভর পশ্চিমা প্রভাবের যুগ ধীরে ধীরে শেষের পথে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আকস্মিক হামলার জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরাইল অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সঙ্গে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
পরবর্তীতে যুদ্ধের ৪০তম দিনে, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হলেও ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান ও সর্বোচ্চ দাবির কারণে তা এখনো কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। তবে তেহরান মনে করে, আত্মনির্ভরতা এবং ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর প্রতি তাদের অঙ্গীকার একটি ‘ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠার পথকে অনিবার্য করে তুলেছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






