বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: টানা দেড় যুগ বিরোধী রাজনীতির পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরলেও দলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে চেইন অব কমান্ডে ঘাটতি এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিশৃঙ্খলায় সরকার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে তৃণমূলকে চাঙা করতে এবং শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন বিএনপি।
আগামীকাল শনিবার (৯ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের সাংগঠনিক বৈঠকে বসবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হতে যাচ্ছে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের প্রথম বড় কোনো বৈঠক। এতে দেশের ৮২টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবরা অংশ নেবেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বৈঠকে জেলা পর্যায়ের বিএনপি ছাড়াও যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
দলের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি, স্থানীয় বিরোধ ও সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে সরাসরি নেতাদের মতামত নেবেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি দলীয় শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেবেন।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে—
নির্বাচনের পর অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় সাংগঠনিক কাজে শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জনমনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
দলের ১১টি অঙ্গসংগঠনের মধ্যে ১০টিরই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনও রয়েছে।
২০১৬ সালের পর আর কোনো জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়নি বিএনপির। বর্তমানে সরকার ও দলের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে বছরের শেষ নাগাদ জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলের আগে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন কমিয়ে দলীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করাই এখন হাইকমান্ডের মূল লক্ষ্য।
বাংলাফ্লো/এফআইআর





