বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা ইরফান খানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভক্তদের জন্য এলো এক অভাবনীয় উপহার। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বাক্সবন্দি থাকার পর অবশেষে আলোর মুখ দেখল ইরফান খান ও বিদ্যা বালন অভিনীত দুষ্প্রাপ্য সিনেমা ‘দ্য লাস্ট টেন্যান্ট’। ইরফানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সম্প্রতি ইউটিউবে মুক্তি দেওয়া হয়েছে হারিয়ে যাওয়া এই চলচ্চিত্রটি।
সিনেমাটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, এটি ভারতীয় চলচ্চিত্রের দুই শক্তিমান অভিনয়শিল্পী ইরফান ও বিদ্যার ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিকের কাজ। ছোট পর্দার গণ্ডি পেরিয়ে রূপালি পর্দায় সম্ভবত এটিই ছিল বিদ্যা বালনের প্রথম সিনেমা। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, পুরো ক্যারিয়ারে এই একটি মাত্র সিনেমাতেই একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন তারা।
২৫ বছর আগে সম্পূর্ণ শূন্য বাজেটে সিনেমাটি নির্মাণ করেছিলেন পরিচালক সার্থক দাশগুপ্ত। কিন্তু মূল ফুটেজ হারিয়ে যাওয়ায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে এর মুক্তি আটকে ছিল। পরিচালক একপ্রকার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। তবে ঘটনাক্রমে ছবিটির একটি পুরনো ভিএইচএস (VHS) কপি খুঁজে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় সেটি পুনরুদ্ধার করে দর্শকদের সামনে আনা সম্ভব হয়েছে।
পরিচালনার স্মৃতিচারণ করে সার্থক দাশগুপ্ত বলেন, “তখন আমি একেবারে নতুন। ইঞ্জিনিয়ারিং ও এমবিএ শেষ করে কর্পোরেট জীবন ছেড়ে আসা সেই তরুণের কাছে এটি ছিল বড় এক পরীক্ষা। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই কেবল অনুভূতির ওপর ভর করে সিনেমাটি বানিয়েছিলাম। আজ প্রিয় ইরফানের স্মরণে এটি মুক্তি দিতে পেরে আমি তৃপ্ত।”
‘দ্য লাস্ট টেন্যান্ট’-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে এক সঙ্গীতশিল্পীকে ঘিরে। দেশ ছাড়ার আগে তিনি একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে নিস্তব্ধতা আর রহস্যের মাঝে ডানা মেলে তার ফেলে আসা স্মৃতি ও আকাঙ্ক্ষা।
নিজের প্রথম দিকের এই কাজ নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত বিদ্যা বালনও। তিনি জানান, “ছবিটি শেষ পর্যন্ত দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে দেখে অবিশ্বাস্য লাগছে। তখন আমি নিজের জায়গা খুঁজছি, আর ইরফান ছিলেন অসাধারণ একজন সহকর্মী। আমাদের একসঙ্গে করা একমাত্র এই কাজটি ফিরে পাওয়া আমার কাছে দারুণ এক প্রাপ্তি।”
গত ২৯ এপ্রিল ইউটিউবে মুক্তির মাত্র তিন দিনের মাথায় সিনেমাটি প্রায় দুই লাখ ভিউ অতিক্রম করেছে। ইরফান ভক্তদের কাছে এই ছবি যেন এক হারিয়ে যাওয়া অমূল্য রত্ন হয়ে ধরা দিয়েছে। উল্লেখ্য, পরিচালক সার্থক দাশগুপ্ত এর আগে ‘দ্য মিউজিক টিচার’ ও ‘২০০ হাল্লা হো’-এর মতো প্রশংসিত চলচ্চিত্র এবং ‘ধারাভি ব্যাংক’ ওয়েব সিরিজ নির্মাণ করেছেন।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ






