জেলা প্রতিনিধি
নেত্রকোণা: নেত্রকোণার মদন উপজেলায় শিক্ষকের লালসার শিকার হয়ে ১২ বছর বয়সী এক কওমি মাদরাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মদন থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিশুটির মা। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম আমান উল্লাহ সাগর। তিনি উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার গ্রামের হযরত ফাতেমাতুজ জোহুরা মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি এক বিধবা নারীর একমাত্র সন্তান। জীবিকার তাগিদে মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করায় শিশুটি তার নানির কাছে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের (২০২৫) নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ভয়ে শিশুটি বিষয়টি গোপন রাখে এবং অসুস্থতার কারণে গত পাঁচ মাস ধরে মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়। সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন নজরে এলে তার মা সিলেট থেকে এসে বিস্তারিত জানতে পারেন।
পরে শিশুটিকে মদন উপজেলার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এই চিকিৎসক জানান, শিশুটি বর্তমানে প্রায় ২৭ সপ্তাহের (৭ থেকে সাড়ে ৭ মাস) অন্তঃসত্ত্বা। ১১-১২ বছর বয়সী এই শিশুটির উচ্চতা সাড়ে চার ফুটের কম এবং ওজন মাত্র ২৯ কেজি। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা মাত্র ৮.২, যা মারাত্মক রক্তস্বল্পতার লক্ষণ। ডা. সায়মা আক্ষেপ করে বলেন, “এই বয়সে মেয়েটির একজন শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তাকে আসতে হলো গাইনোকোলজিস্টের কাছে। তার সরু কোমরের তুলনায় গর্ভস্থ বাচ্চার মাথার মাপ অনেক বেশি হওয়ায় স্বাভাবিক ডেলিভারি প্রায় অসম্ভব। আবার এই ছোট শরীরে সিজারের অ্যানেসথেসিয়া দেওয়াটাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শিশুটি ও তার পরিবার প্রচণ্ড ট্রমার মধ্যে রয়েছে।”
মাদরাসার অন্য শিক্ষকরা জানান, গত ১৮ এপ্রিল থেকে অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর ছুটি নিয়ে আর মাদরাসায় আসেননি। বর্তমানে তিনি তার স্ত্রী-সন্তানসহ পুরোপুরি আত্মগোপনে রয়েছেন। এদিকে, মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে ও আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এই ঘটনার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






