বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: আজ পহেলা মে, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস বা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। বাংলাদেশেও দিনটি ঘিরে নানা আয়োজন থাকলেও, এবারের প্রেক্ষাপট বেশ ভিন্ন। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল’ নিয়ে শ্রমিক মহলে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ। আইনে মাতৃত্বকালীন ছুটি, উৎসব ছুটি ও ভবিষ্য তহবিল (প্রভিডেন্ট ফান্ড) ব্যবস্থায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হলেও বাস্তবে এসবের কার্যকর প্রয়োগ নিয়ে চরম সংশয় প্রকাশ করেছেন শ্রমিক নেতারা।
গত ৯ এপ্রিল পাস হওয়া সংশোধিত এই আইনে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে মাতৃত্বকালীন ছুটি ১১২ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন এবং বার্ষিক উৎসব ছুটি ১১ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৩ দিন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে ১০০ জন স্থায়ী শ্রমিক থাকলে ভবিষ্য তহবিল গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; তবে দুই-তৃতীয়াংশ কর্মী জাতীয় পেনশন স্কিম ‘প্রগতি’-তে যুক্ত হলে প্রতিষ্ঠান এই তহবিল গঠন থেকে অব্যাহতি পাবে। এছাড়া একটি প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ পাঁচটি ট্রেড ইউনিয়নের সুযোগ কমিয়ে তিনটিতে আনা হয়েছে এবং ‘মহিলা’ শব্দের বদলে ‘নারী’ শব্দ যুক্ত করা হয়েছে।
তবে আইনের এই পরিবর্তনগুলো কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা করছেন শ্রমিক নেতারা। বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন হাওলাদার জানান, ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যা কমানো বা বাড়ানোর কোনো অর্থ নেই, কারণ প্রায় সব কারখানাতেই মালিকপক্ষের ‘পকেট ইউনিয়ন’ থাকে। এছাড়া দেশের সাত কোটির বেশি শ্রমিকের ৯৯ শতাংশই কোনো সংগঠনের আওতার বাইরে থাকায় তাদের অধিকার আদায় প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন। ব্যক্তিমালিকানাধীন অনেক প্রতিষ্ঠান শ্রম আইন মানে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন আইনজীবী মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী। কার্যকর প্রয়োগের দিকে জোর দিয়ে তিনি বলেন, “শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে শক্তিশালী তদারকি ও স্বচ্ছ প্রয়োগ কাঠামো প্রয়োজন। অংশীজনদের যথাযথ অংশগ্রহণ ছাড়া নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো মাঠপর্যায়ে মালিক-শ্রমিক সম্পর্কে নতুন জটিলতা ও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আইন সংশোধনের পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”
বাংলাফ্লো/এফআইআর






