বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাইম আহমেদ টিটন (৫৫) নিহত হওয়ার ঘটনায় আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলালকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন বাদী হয়ে নিউমার্কেট থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তবে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের আগস্টে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তির পর নতুন করে ব্যবসা শুরুর চেষ্টা করছিলেন টিটন। একটি গরুর হাটের ইজারা (শিডিউল) নেওয়া কেন্দ্র করে পিচ্চি হেলাল, কিলার বাদল ও ভাঙ্গারি রনিসহ কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। এর জেরে প্রতিপক্ষ সমঝোতার কথা বলে ডেকে নিয়ে গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ হোস্টেলের সামনে বটতলায় টিটনের ওপর হামলা চালায়। মোটরসাইকেলে আসা অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালালে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ২৯ এপ্রিল ভোরে যশোর থেকে এসে নিহতের বড় ভাই লাশ শনাক্ত করেন এবং নিউমার্কেট থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে পুলিশের একাধিক সূত্র থেকে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও বেশ কিছু কারণ উঠে এসেছে। জানা গেছে, কাইল্লা বাদলের স্ত্রীকে একটি বাসায় রাখা নিয়ে বাদলের সঙ্গে এবং ধানমন্ডি এলাকায় ডিপিডিসির কাজ থেকে চুরি করা তারের লক্ষ লক্ষ টাকার ভাগাভাগি নিয়ে মেহেদী হাসান রুবেল ওরফে ‘তারচোর রুবেল’-এর সঙ্গে টিটনের দ্বন্দ্ব চলছিল। এ ছাড়া জেল থেকে বের হয়ে পিচ্চি হেলালের দলে যোগ দেওয়ায় আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজেদুল হক ইমনের (যিনি সম্পর্কে টিটনের ভগ্নিপতি) সঙ্গেও তাঁর তীব্র বিরোধ তৈরি হয়। যদিও মামলায় ইমনের নাম দেওয়া হয়নি। গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোয়েন্দারা মাঠে কাজ করছে এবং এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে; দ্রুতই এ বিষয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় দুই নম্বরে থাকা টিটন ছিলেন দেশের অপরাধজগতের পরিচিত নাম। নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে অপরাধজগতে প্রবেশ করা টিটন একাধিক হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেওয়া ও অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। তবে গত ২০২৪ সালের আগস্টে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পুলিশের ধারণা, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরেই খুন হয়েছেন তিনি।
বাংলাফ্লো/এফআইআর



