জেলা প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এর ধারায় এই মামলা দায়ের করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, গত ২২ এপ্রিল ‘স্কুল ফিডিং প্রকল্পের’ খাবার খেয়ে শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে নিম্নমানের ও বাসী-পচা খাবার সরবরাহের অভিযোগে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স বিস্কুট বিপণি’র বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য আইনে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে মেসার্স বিস্কুট বিপণির মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন এই ঘটনার জন্য গাক (GAK) এনজিও এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, গাক এনজিওর মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩৯ হাজার ৪৮০ জন শিক্ষার্থীর জন্য তাঁরা বনরুটি সরবরাহ করে থাকেন। তাঁর দাবি, গত ১৯ এপ্রিল সরবরাহ করা বনরুটির কিছু অংশ বেঁচে যায়, যা এনজিওটি ২২ এপ্রিল বিতরণ করে। মেয়াদোত্তীর্ণ এসব বনরুটি দেখেশুনে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষেরও গাফিলতি রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, গাক এনজিওর গোডাউন মানসম্মত নয় এবং এ জন্য তাদের জরিমানাও করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গক্রমে, গত এক সপ্তাহ ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে খাবার খেয়ে বিষক্রিয়ার এই ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা ছিল গোমস্তাপুর উপজেলার মকরমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যেখানে ১৫০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ ছাড়া শিবগঞ্জ উপজেলার চাতরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৫ জন এবং সদর উপজেলার শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষার্থী বমি ভাব, পেটব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং শিক্ষা কর্মকর্তারা বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। তবে বর্তমানে সব শিক্ষার্থী আশঙ্কামুক্ত ও সুস্থ রয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






