বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: এক দশকের অবকাঠামো নির্মাণ ও জটিল কারিগরি সক্ষমতা অর্জনের পর অবশেষে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে পা রাখছে বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। গত ১৬ এপ্রিল পরমাণু চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশের লাইসেন্স বা কমিশনিং পাওয়ার পর সব প্রস্তুতি শেষে আজ বিকেলে এই ঐতিহাসিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে।
জ্বালানি খাতের এই মেগাপ্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আজ সকালে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার রোসাটমের মহাপরিচালক (ডিজি) আলেক্সি লিখাচেভ ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে চার্টার্ড ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছাছেন। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকায় নেমে তিনি প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এরপর সকাল সাড়ে ১১টায় হেলিকপ্টারে করে রূপপুর প্ল্যান্টের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুযায়ী, নিরাপত্তা ও কারিগরি শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতায় এর আগে কয়েকবার জ্বালানি লোডিংয়ের সময়সীমা নির্ধারণ করেও তা সম্ভব হয়নি। তবে এখন সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রূপপুরের প্রথম ইউনিট। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন জানান, প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শেষ হতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে। এই কার্যক্রমে অংশ নিতে ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞও অপারেটিং লাইসেন্স পেয়েছেন।
আশা করা হচ্ছে, আগামী জুলাইয়ের শেষে অথবা আগস্টের শুরুর দিকেই প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় (১২০০ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। পদ্মা নদীর তীরে ঈশ্বরদীতে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের দুটি ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে এখান থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করবে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর



