আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ইয়াসমিন নামের এক বাংলাদেশি নারীকে হাতুড়ির আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করেছে জোয়াকিন নামের এক হাইতির নাগরিক। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ঘটনার জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের অভিবাসন নীতিকে কড়া ভাষায় দায়ী করেছেন।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে ঘাতককে ‘পশু’ আখ্যা দিয়ে লিখেছেন, বাইডেন প্রশাসন হাইতিয়ানদের ‘বিশেষ নিরাপত্তা অবস্থার’ (টিপিএস) আওতায় যে সুবিধা দিয়েছিল, তার কারণেই এই খুনি যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তিনি এই পোগ্রামটিকে ‘প্রতারণামূলক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাঁর প্রশাসন এটি বন্ধ করার কাজ করলেও উন্মাদ ও উগ্র বিচারকরা তাতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, এই একটি হত্যাকাণ্ডই বিচারকদের জন্য যথেষ্ঠ হওয়া উচিত, যাতে তারা অভিবাসন নীতি কার্যকরে বাধা না দিয়ে এই প্রতারণামূলক পোগ্রামটি একবারে শেষ করতে দেন।
জানা গেছে, জোয়াকিন ২০২২ সালের আগস্টে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে। সে বছরই আদালত তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিলেও তৎকালীন মার্কিন সরকার তাকে অস্থায়ী ভিসা দেয়, যার মেয়াদ ২০২৪ সালে শেষ হয়। ঘটনার দিনের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গ্যাস স্টেশনে গাড়ি ভাঙচুর করার সময় স্টোর থেকে ক্লার্ক ইয়াসমিন বের হয়ে এলে জোয়াকিন তাঁর মাথায় পরপর সাতবার হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে, এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে পুলিশের কাছে জোয়াকিন স্বীকার করে যে, সে ওই গ্যাস স্টেশনের একজনকে হত্যা করতেই গিয়েছিল। উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন হাইতির সাড়ে তিন লাখ মানুষের বিশেষ সুবিধা বাতিল করে তাদের ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করলেও চলতি বছরের শুরুতে এক ফেডারেল বিচারক তা বন্ধ করার নির্দেশ দেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর





