বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: দেশে ‘পেট্রোল নেই, অকটেন নেই, পরিস্থিতি একেবারে খারাপ’—বিষয়টি এমন নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, মূলত ভবিষ্যতের শঙ্কায় মানুষের অতিরিক্ত কেনাকাটা (প্যানিক বায়িং) এবং একটি চক্রের অবৈধ মজুতের কারণেই ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে।
গত বছরের (২০২৫) মার্চের সঙ্গে চলতি বছরের মার্চের পরিসংখ্যান তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর অকটেনের সরবরাহ বরং কিছুটা বেড়েছে। তবে পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মতো কমেছে, যা বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অস্বাভাবিক নয়। সংকটকে পুঁজি করে পাচার ও অবৈধ মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, চলতি এপ্রিলেই ৭৪টি অভিযান পরিচালনা করে ১১৪টি মামলা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ১৪ হাজার টনের বেশি ডিজেলসহ অকটেন ও পেট্রোলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলেও তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিপুল আর্থিক চাপের কথা উল্লেখ করে ডা. জাহেদ বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই এ খাতে ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকির বোঝা ছিল। বর্তমানে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, আদানি পাওয়ার, পেট্রোবাংলাসহ বিভিন্ন খাতে বকেয়ার পরিমাণও বিশাল। তবে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে অন্তত আগামী এক মাসের জন্য দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে না বলে জানান তিনি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামীতে সরকারকে আরও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন এই উপদেষ্টা।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






