আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: পারস্য উপসাগরে অবস্থিত মাত্র ২২ বর্গকিলোমিটারের প্রবালদ্বীপ ‘খার্গ’ ইরানিদের কাছে ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ হিসেবে পরিচিত। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কড়া পাহারায় থাকা এই দ্বীপটি মূলত ইরানের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, যেখান থেকে দেশের মোট তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই সম্পন্ন হয়। তবে কেবল তেলের টার্মিনাল নয়, হাজার বছরের প্রাচীন ইতিহাস, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং ঔপনিবেশিক স্মৃতি বিজড়িত এই ‘এতিম মুক্তো’ এখন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কেন্দ্রে কড়া সামরিক নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা।
বুশেহর বন্দর থেকে ৫৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই দ্বীপ থেকে প্রতি বছর প্রায় ৯৫ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়, যার বেশিরভাগই যায় এশিয়ার বাজারে (বিশেষ করে চীনে)। আবুজার, ফুরুজান ও দুরুদ অফশোর ক্ষেত্র থেকে পাইপলাইনে আসা এই তেল এখানে সংরক্ষণ করে বিশ্ববাজারে পাঠানো হয়। গভীর সমুদ্রের কারণে এখানে অনায়াসেই বিশাল সুপারট্যাংকার ভিড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক শত নিষেধাজ্ঞার পরও ইরান এই টার্মিনালের পরিকাঠামো বাড়িয়েছে। এস অ্যান্ড পি গ্লোবালের তথ্যমতে, গত ২০২৫ সালের মে মাসে দুটি ট্যাংক সংস্কার করে এর ধারণক্ষমতা আরও ২০ লাখ ব্যারেল বাড়ানো হয়েছে।
হাজার বছর ধরে এখানে মানুষের বসবাস। দ্বীপে এলামাইট, আকিমিনিড ও সাসানিড যুগের অনেক নিদর্শন রয়েছে। সপ্তম শতাব্দীর মির মোহাম্মাদ মাজার, নবী নূহের বংশধর মির আরামের সমাধি, এবং জরথুস্ত্রধর্মী, খ্রিষ্টান ও সাসানিডদের পুরোনো কবরস্থান পাশাপাশি রয়েছে। এখানকার ৮৫ বাই ১১৬ সেন্টিমিটারের একটি আকিমিনিড প্রবালশিলালিপি ‘পারস্য উপসাগর’ নামের সবচেয়ে পুরোনো নথিগুলোর একটি।
একসময় পর্তুগিজ ও পরে ডাচদের দখলে ছিল এই দ্বীপ। ১৭৬৬ সালের জানুয়ারিতে স্থানীয় শাসক মির মুহান্না ডাচদের তাড়িয়ে দেন। বিংশ শতাব্দীতে রেজা শাহ পাহলভি একে রাজনৈতিক বন্দীদের নির্বাসনস্থল বানিয়েছিলেন। ১৯৫৮ সালে আধুনিক তেল যুগের সূচনার পর, ১৯৮০-র দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধে দ্বীপটি ভয়াবহ বোমা হামলার শিকার হয় এবং পরে পুনরায় গড়ে তোলা হয়।
পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকায় এখানকার প্রকৃতি এখনো অক্ষুণ্ন রয়েছে। চলমান মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার কারণে বর্তমানে এটি অত্যন্ত কড়া সামরিক পাহারায় রয়েছে এবং সুপারট্যাংকারগুলো নীরবে এখান থেকে তেল পরিবহন করে চলেছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর
পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকায় এখানকার প্রকৃতি এখনো অক্ষুণ্ন রয়েছে। চলমান মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার কারণে বর্তমানে এটি অত্যন্ত কড়া সামরিক পাহারায় রয়েছে এবং সুপারট্যাংকারগুলো নীরবে এখান থেকে তেল পরিবহন করে চলেছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর




