আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিহত হওয়ার যে খবর ছড়িয়েছে, তা এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ অসমর্থিত এবং অনেকটাই গুজব বলে বিবেচিত হচ্ছে। মার্কিন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের নামে থাকা একটি সন্দেহভাজন এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টের পোস্টকে কেন্দ্র করে এই দাবি করা হলেও, এর সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
তাসনিম নিউজ দাবি করেছে যে, ৯ মার্চ নেতানিয়াহুর বাসভবনে ইরানি মিসাইল হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন এবং ইতামার বেন-গিভর আহত হয়েছেন। তবে যে এক্স অ্যাকাউন্টের বরাতে এই খবর, সেটি আদৌ স্কট রিটারের কি না তা নিশ্চিত নয়। এছাড়া হামলার বা নেতানিয়াহুর মৃত্যুর কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ সংবাদমাধ্যমটি দিতে পারেনি।
সুনির্দিষ্ট প্রমাণের বদলে তাসনিম বেশ কিছু পারিপার্শ্বিক ঘটনাকে একত্রিত করে এই দাবি জোরালো করার চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—নেতানিয়াহুর নতুন কোনো ভিডিও বার্তা না আসা, বাসভবনের চারপাশে নিরাপত্তা বৃদ্ধি, মার্কিন বিশেষ দূতদের সফর স্থগিত হওয়া এবং ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপের তারিখবিহীন রেকর্ড।
এই গুঞ্জনের বিষয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। দপ্তরের রেকর্ড অনুযায়ী, নেতানিয়াহুকে সর্বশেষ গত ৭ মার্চ জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল, যখন তিনি মিসাইল হামলায় আহতদের দেখতে বিরশেবা এলাকায় গিয়েছিলেন।
নেতানিয়াহুর মৃত্যু নিয়ে ইরানি সংবাদমাধ্যমের এমন দাবি এটিই প্রথম নয়। চলমান যুদ্ধের মধ্যেই গত ২ মার্চ তারা দাবি করেছিল যে, মিসাইল হামলায় নেতানিয়াহুর দপ্তর ধ্বংস হয়েছে এবং তিনি নিহত হয়েছেন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর অনুসন্ধানে সেটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও ‘নিছক গুজব’ হিসেবে প্রমাণিত হয়।
বাংলাফ্লো/এফআইআর





