আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কবার্তার পর মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় নৌ ও বিমান বাহিনী মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বিশ্বের বৃহত্তম মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’-এ অবস্থানরত প্রায় ৫ হাজার নাবিকের জন্য ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের চেয়েও বড় দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে রণতরীটির টয়লেট ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা!
রণতরীর বর্তমান পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট:
১৩ বিলিয়ন ডলারের রণতরীতে টয়লেট বিভ্রাট: অত্যাধুনিক এই রণতরীর ভ্যাকুয়াম-ভিত্তিক প্লাম্বিং সিস্টেমে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিয়েছে। জাহাজের প্রায় ৬৫০টি টয়লেটের অনেকগুলোই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ভ্যাকুয়াম সিস্টেম হওয়ায় পাইপলাইনে টি-শার্ট থেকে শুরু করে দড়ি পর্যন্ত আটকে যাচ্ছে এবং একটি অংশে সমস্যা হলে পুরো সেকশনের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়ছে। ফলে নাবিকদের সার্বক্ষণিক মেরামতের কাজে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।
রেকর্ড সময় মোতায়েন ও মানসিক চাপ: গত বছরের জুন থেকে সমুদ্রে থাকা এই রণতরীটি ইতোমধ্যে আট মাস পার করেছে। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে এই সময়সীমা ১১ মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে, যা একটানা মোতায়েনের ক্ষেত্রে একটি রেকর্ড। জাহাজে থাকা ২০ বছরের কম বয়সী তরুণ নাবিকরা দীর্ঘ মোতায়েন, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং ‘ঘোস্ট মোডে’ চলাচলের কারণে চরম মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। অনেকেই হতাশ হয়ে নৌবাহিনী ছাড়ার কথাও ভাবছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে নজিরবিহীন সামরিক উপস্থিতি: বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক ডজনের বেশি যুদ্ধজাহাজ টহল দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’, নয়টি ডেস্ট্রয়ার এবং তিনটি লিটোরাল কমব্যাট শিপ। এই অঞ্চলে একসঙ্গে দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের ঘটনা বেশ বিরল।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






