বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের অবৈধ মাদকের সঙ্গে জড়িত, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে গাঁজা সেবনকারীরা। রোববার (২৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকাশিত গবেষণায় এসব উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

‘বাংলাদেশে মাদক অপব্যবহারকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা, ধরন ও সংশ্লিষ্ট কারণসমূহ’ শীর্ষক এই জাতীয় পর্যায়ের গবেষণাটি পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।
গবেষণার মূল তথ্যাবলি:
১. মাদকসেবীর সংখ্যা ও ধরন: গবেষণায় সিগারেট সেবনকে বাদ দিয়ে শুধু অবৈধ মাদকের হিসাব করা হয়েছে।
মোট সেবনকারী: প্রায় ৮২ লাখ (জনসংখ্যার ৪.৮৮%)।
গাঁজা (শীর্ষে): প্রায় ৬১ লাখ সেবনকারী ।
ইয়াবা: প্রায় ২৩ লাখ সেবনকারী ।
অ্যালকোহল: প্রায় ১৯ লাখ সেবনকারী ।
অন্যান্য: কোডিনযুক্ত কাশির সিরাপ, ঘুমের ওষুধ ও হিরোইন।
২. অঞ্চলভিত্তিক পরিসংখ্যান:
ব্যবহারের হার (শতাংশ): মাদক ব্যবহারের হারে শীর্ষে রয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ (৬.০২%)। এরপর রংপুর (৬%) এবং চট্টগ্রাম (৫.৫০%)। সবচেয়ে কম হার রাজশাহী (২.৭২%) ও খুলনা (৪.০৮%) বিভাগে।
ব্যবহারকারীর সংখ্যা: সংখ্যার বিচারে সবচেয়ে বেশি মাদকসেবী বাস করে ঢাকা বিভাগে (প্রায় ২২.৯ লাখ)। এরপর চট্টগ্রাম (১৮.৮ লাখ) এবং রংপুর (১০.৮ লাখ)।
৩. বয়স ও আসক্তির শুরু: ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ খুব কম বয়সে মাদকের সঙ্গে জড়াচ্ছে।
৮ থেকে ১৭ বছর: ৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী এই বয়সে প্রথম মাদক নেওয়া শুরু করেন।
১৮ থেকে ২৫ বছর: ৫৯ শতাংশের হাতেখড়ি হয় এই বয়সে।
৪. আসক্তির কারণ: গবেষণায় মাদকের সহজলভ্যতাকে আসক্তির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে—বেকারত্ব, বন্ধুমহলের প্রভাব, আর্থিক অনিশ্চয়তা, পারিবারিক অস্থিরতা, মানসিক চাপ ও অনানুষ্ঠানিক পেশা।
গবেষণার প্রেক্ষাপট: ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত দেশের ৮টি বিভাগের ১৩টি জেলা ও ২৬টি উপজেলায় তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এই গবেষণা সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে বিএমইউ-এর ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, ‘এটা ভাবার কারণ নেই যে শুধু কিছু খারাপ মানুষ মাদকাসক্ত। আমরা বা আমাদের সন্তানরা সবাই ঝুঁকির মধ্যে আছি। মাদক প্রতিরোধে পলিটিক্যাল কমিটমেন্ট এবং ঐক্যের প্রয়োজন।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেন, ‘মাদক নির্মূলে পরিবার থেকেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এটি এখন সামাজিক যুদ্ধের মতো।’ তিনি জানান, মাদকের চিকিৎসাসেবা বাড়াতে সরকার ঢাকা বাদে অবশিষ্ট ৭টি বিভাগে ২০০ শয্যা করে মোট ৭টি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র চালুর প্রকল্প পাস করেছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






