বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা দিতে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিল অন্তর্বর্তী সরকার। রাষ্ট্রপতি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে এই অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করা হয়।
এই অধ্যাদেশের ফলে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার কারণে কারও বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতে এই ঘটনার জেরে নতুন কোনো মামলা করা যাবে না।
অধ্যাদেশের মূল বিষয়সমূহ:
১. মামলা প্রত্যাহার ও দায়মুক্তি: সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে কারও বিরুদ্ধে মামলা থাকলে, পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারি আইনজীবীর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে আদালত তা প্রত্যাহার করবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি অবিলম্বে খালাস পাবেন।
২. হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ও মানবাধিকার কমিশন: গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে যদি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থাকে, তবে তা সরাসরি থানায় নয়, বরং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে’ দাখিল করতে হবে।
তদন্তে বাধা: হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি যদি পুলিশ বা কোনো বাহিনীর সদস্য হন, তবে সেই বাহিনীর বর্তমান বা সাবেক কোনো কর্মকর্তা তদন্ত করতে পারবেন না।
গ্রেপ্তার: তদন্তকালে আসামিকে গ্রেপ্তার করতে হলে কমিশনের যৌক্তিক কারণসহ অনুমোদন লাগবে।
৩. বিচার নাকি ক্ষতিপূরণ? কমিশনের তদন্তে ঘটনার প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে দুই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে:
অপরাধমূলক অপব্যবহার: যদি দেখা যায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রোশ বা অপরাধ করা হয়েছে, তবে তা আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য হবে এবং বিচার চলবে।
রাজনৈতিক প্রতিরোধ: যদি দেখা যায় ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, তবে কোনো মামলা বা বিচার হবে না। সেক্ষেত্রে কমিশন সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দিতে পারবে।
প্রেক্ষাপট: এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ছাত্র-জনতার সশস্ত্র প্রতিরোধ ও আত্মরক্ষামূলক কাজকে বৈধতা দিতেই এই অধ্যাদেশ জারি করা হলো।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






