লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: শীতের রাতে কম্বলের উষ্ণতা ছেড়ে বারবার বাথরুমে যাওয়া নিঃসন্দেহে বিরক্তিকর। কনকনে ঠান্ডায় অনেকেই এই সমস্যাকে স্বাভাবিক মনে করে এড়িয়ে যান, কেউ কেউ আবার সমাধান হিসেবে পানি খাওয়া কমিয়ে দেন। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন—শীতকালে অতিরিক্ত প্রস্রাব সব সময় স্বাভাবিক না-ও হতে পারে। এটি অনেক সময় কিডনির ওপর বাড়তি চাপ বা লুকিয়ে থাকা জটিল রোগের ইঙ্গিত বহন করে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘কোল্ড ডাইউরেসিস’। ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীর নিজের তাপমাত্রা ধরে রাখতে ত্বকের কাছের ক্ষুদ্র রক্তনালিগুলোকে সংকুচিত করে ফেলে। ফলে ত্বকের দিকে রক্তপ্রবাহ কমে শরীরের কেন্দ্রীয় অঙ্গগুলোর (বিশেষ করে কিডনি) দিকে রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায়। কিডনিতে রক্তপ্রবাহ বাড়লে প্রস্রাব তৈরির পরিমাণও বাড়ে। এছাড়া শীতে ঘাম কম হওয়ায় শরীরের অতিরিক্ত তরল বের হওয়ার প্রধান পথ হয়ে ওঠে প্রস্রাব। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি শরীরের স্বাভাবিক অভিযোজন প্রক্রিয়া।
দিনে কয়েকবার বেশি প্রস্রাব হওয়া স্বাভাবিক হলেও, যদি রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব হয় তবে তা কিডনির ওপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে যাদের বয়স ৩৫-এর বেশি, যারা শারীরিকভাবে কম সক্রিয় এবং যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস আছে, তাদের বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
শীতে রক্তনালি সংকুচিত হওয়া ও চলাফেরা কমে যাওয়ার কারণে অনেকের রক্তচাপ বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রস্রাব ঘন করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ফলে বেশি পরিমাণে পাতলা প্রস্রাব তৈরি হয়, যার দরুন রাতে বারবার বাথরুমে যেতে হয়।
সাধারণ প্রস্রাবের চাপের বাইরে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
ফেনা যুক্ত প্রস্রাব: এটি প্রোটিন ক্ষয়ের লক্ষণ, যা কিডনি ক্ষতির প্রাথমিক ইঙ্গিত।
জ্বালা বা ব্যথা: প্রস্রাবের সময় অস্বস্তি বা ব্যথা।
ধীর গতি: দুর্বল বা থেমে থেমে প্রস্রাব হওয়া।
শারীরিক ফোলাভাব: মুখ, পা বা চোখের নিচে পানি জমে ফুলে যাওয়া।
অস্বাভাবিক ক্লান্তি: শক্তিহীনতা বা দুর্বলতা বোধ করা
করণীয় ও পরামর্শ
১. পানি কমানো নয়: ঘন ঘন প্রস্রাবের ভয়ে পানি পান কমিয়ে দেওয়া ভুল। এতে পানিশূন্যতা ও কিডনির ক্ষতি হতে পারে। ২. রক্তচাপ ও সুগার চেক: নিয়মিত রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করুন। ৩. পরীক্ষা: ইউরিন রুটিন টেস্ট (Urine R/E) এবং রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা পরীক্ষা করে কিডনির অবস্থা জানা সম্ভব। ৪. শীতের পরেও সমস্যা: শীত শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও যদি এই প্রবণতা থাকে, তবে দেরি না করে নেফ্রোলজিস্টের পরামর্শ নিন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






