তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
ঢাকা: বিশ্বখ্যাত অনুসন্ধানী সাংবাদিক জন ক্যারিরু, যিনি একসময় ‘থেরানোস’ কেলেঙ্কারি ফাঁস করে বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন, এবার তিনি লড়াইয়ে নেমেছেন বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। অনুমতি ছাড়া বই ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণের অভিযোগে গুগল, ওপেনএআই, মেটা, অ্যানথ্রোপিক, পারপ্লেক্সিটি এবং ইলন মাস্কের এক্সএআই (xAI)-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন তিনি।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতে জন ক্যারিরুসহ মোট ছয়জন লেখক এই মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে:
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো লেখকদের কপিরাইট করা বই ‘পাইরেটেড’ বা অবৈধ উপায়ে সংগ্রহ করেছে।
এই বইগুলো ব্যবহার করে তাদের লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM) তৈরি ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এই মডেলগুলোর ওপর ভিত্তি করেই বর্তমানের জনপ্রিয় চ্যাটবটগুলো পরিচালিত হচ্ছে।
এই মামলাটি আইনি ও প্রযুক্তি বিশ্বে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে দুটি কারণে:
১. এক্সএআই-এর অন্তর্ভুক্তি: এই প্রথম ইলন মাস্কের এআই প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’-কে কপিরাইট সংক্রান্ত কোনো মামলায় আসামি করা হলো।
২. ক্লাস অ্যাকশন বর্জন: লেখকরা সম্মিলিত বা ‘ক্লাস অ্যাকশন’ মামলার পথে হাঁটেননি। তাদের দাবি, ক্লাস অ্যাকশন মামলায় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো অল্প টাকায় বড় ধরনের সমঝোতা বা দফারফা করে ফেলে। তারা চান প্রতিটি কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য ন্যায্য ও আলাদা বিচার। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এআই কোম্পানিগুলো যেন “খুচরা দামে” তাদের দায় এড়াতে না পারে।
এর আগে অ্যানথ্রোপিক লেখকদের একটি গ্রুপের সঙ্গে ১৫০ কোটি ডলারে সমঝোতা করেছিল, যেখানে লেখকরা তাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের মাত্র ২ শতাংশ পেয়েছিলেন। জন ক্যারিরু একে এআই কোম্পানিগুলোর “মূল পাপ” বলে অভিহিত করেছিলেন।
সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, ক্যারিরুর আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন কাইল রোচে। ২০২৩ সালে নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই কাইল রোচেকে নিয়েই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছিলেন খোদ ক্যারিরু। পুরনো সেই তিক্ততা ভুলে এখন তারা একজোট হয়েছেন এআই জায়ান্টদের বিরুদ্ধে।
গুগল, মেটা বা ওপেনএআইয়ের মতো অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






