বাংলাফ্লো প্রতিনিধি
ঢাকা: ‘সচিবালয় ভাতা’র দাবিতে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদকে তার দপ্তরে টানা ৬ ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ১৪ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে জারি করা একাধিক প্রজ্ঞাপনে এই বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এই ১৪ জন কর্মচারী ‘বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ’-এর ব্যানারে আন্দোলন করছিলেন। বরখাস্তকৃতরা হলেন:
বাদিউল কবির (সভাপতি), শাহীন গোলাম রাব্বানী (সহসভাপতি), নজরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান সুমন (প্রচার সম্পাদক)।
রোমান গাজী ও বিকাশ চন্দ্র রায় (প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়), আবু বেলাল, ইসলামুল হক ও মো. মহসিন আলী (কর্মচারী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়), কামাল হোসেন ও মো. আলিমুজ্জামান (অফিস সহায়ক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়), মো. তায়েফুল ইসলাম (অতিরিক্ত সচিবের পিও, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়), বিপুল রানা বিপ্লব (অফিস সহায়ক, অর্থ মন্ত্রণালয়) এবং নাসিরুল হক (অফিস সহায়ক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ)।
গত ১০ ডিসেম্বর দুপুরে ২০ শতাংশ সচিবালয় ভাতার দাবিতে আন্দোলনকারীরা অর্থ উপদেষ্টার কক্ষের সামনে অবস্থান নেন। তারা দরজার সামনে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন এবং উপদেষ্টাকে বের হতে বাধা দেন। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর রাত ৮টা ১২ মিনিটে পুলিশি পাহারায় সচিবালয় ত্যাগ করেন অর্থ উপদেষ্টা।
সাবেক শীর্ষ আমলারা এই ঘটনাকে প্রশাসনিক ইতিহাসের ‘নজিরবিহীন’ ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের মতে, সচিবালয়ের মতো সংবেদনশীল স্থানে একজন উপদেষ্টাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিম্মি করে রাখা শুধু নিরাপত্তা ঝুঁকিই নয়, বরং চরম প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার পরিচয়।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






