স্পোর্টস ডেস্ক
ঢাকা: দীর্ঘ দুই যুগ পর লিওনেল মেসির ভারতে পা রাখার ঘটনাটি ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকার কথা থাকলেও, তা পরিণত হলো লজ্জায়। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে চরম অব্যবস্থাপনা, ভিআইপি সংস্কৃতির দাপট এবং মন্ত্রীদের ‘দখল’ নেওয়ার প্রতিযোগিতায় ভেস্তে গেল পুরো আয়োজন। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলেন মেসি, আর ক্ষুব্ধ দর্শকদের ভাঙচুরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হলো কলকাতা।

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশৃঙ্খলার মূল সূত্রপাত পশ্চিমবঙ্গের দুই মন্ত্রী—দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু এবং ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের মধ্যকার প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে। বিমানবন্দর ও হোটেল ছিল সুজিত বসুর ‘দখলে’, যেখানে তিনি সপরিবারে মেসির সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু স্টেডিয়ামে ঢোকার পর নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের হাতে। মাঠের ট্র্যাকে নামামাত্রই শত শত ‘ভিআইপি’, নেতা ও তাদের আত্মীয়-স্বজন মেসিকে ঘিরে ফেলেন। ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস কার্যত মেসির গায়ে লেপ্টে ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

সেলফি শিকারিদের উশৃঙ্খল আচরণে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ভিড়ের ধাক্কায় লুইস সুয়ারেজের পেটে এক ব্যক্তির কনুইয়ের গুঁতো লাগে। এমনকি রদ্রিগো ডি’পলের হাতেও নখের আঁচড় লাগে। মুখে হাসি ধরে রাখার চেষ্টা করলেও মেসি ও তার সঙ্গীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। রহিম নবি ও দীপেন্দু বিশ্বাসের মতো সাবেক ফুটবলাররা জানান, মেসি পেনাল্টি কিক নেওয়ার জন্য পোস্টের দিকে এগোলেও তাকে জোর করে ভিড়ের মধ্যে টেনে নেওয়া হয়। তাকে ঠিকমতো হাঁটতেও দেওয়া হচ্ছিল না।
মাঠে প্রায় এক ঘণ্টা থাকার কথা থাকলেও মাত্র ২২ মিনিটের মাথায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের পরামর্শে মাঠ ছাড়েন মেসি। এই ২২ মিনিটের পুরোটা সময়ই তাকে ঘিরে রেখেছিলেন রাজনীতিবিদ ও তাদের চ্যালারা। ফলে হাজার হাজার টাকা খরচ করে টিকেট কেনা সাধারণ দর্শকরা মেসিকে এক নজর দেখার সুযোগই পাননি।
ইন্ডিয়া টুডে এবং এনডিটিভির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, নিয়ন্ত্রণহীন ভিআইপি সংস্কৃতিই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। সাধারণ দর্শকদের ক্ষোভ, স্টেডিয়াম ভাঙচুর এবং আয়োজক কমিটির প্রধানের গ্রেপ্তারের খবর এখন বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হচ্ছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






