আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী প্রিটোরিয়ার একটি হোস্টেলে বন্দুকধারীদের বর্বরোচিত হামলায় তিন বছরের এক শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) ভোরের দিকে সলসভিল (Saulsville) এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। হামলায় আরও অন্তত ১৪ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই হোস্টেলের ভেতরে অবৈধভাবে মদের আড্ডাখানা (শিবিন) চালানো হতো।
প্রিটোরিয়া পুলিশের মুখপাত্র অ্যাথলেন্ডা মাথে জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে চারটার দিকে তিনজন বন্দুকধারী হোস্টেলের ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে একটি অবৈধ মদের আড্ডাখানায় একদল লোক অবস্থান করছিলেন। বন্দুকধারীরা তাঁদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায়।
এই হামলায় ঘটনাস্থলেই ১০ জন নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে একটি ৩ বছরের শিশু, ১২ বছর বয়সী এক কিশোর এবং ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে।
পুলিশ জানায়, মোট ২৫ জনকে গুলি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সকাল ছয়টার দিকে পুলিশ গোলাগুলির খবর পায়। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ হামলাকারীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে।
অ্যাথলেন্ডা মাথে বলেন, “অবৈধ ও অননুমোদিত মদ বিক্রির আস্তানাগুলো আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এসব আস্তানায় ঘটছে এবং নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে।”
উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বে সর্বাধিক হত্যাকাণ্ডের হারের দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে এ ধরনের mass shooting বা গণহত্যাকাণ্ডের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






