আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশে ভারী বৃষ্টিপাত ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই অঞ্চলের দুই দেশ থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১১৬ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় ৬১ জন এবং থাইল্যান্ডে ৫৫ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া মালয়েশিয়াতেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
থাই সরকার জানিয়েছে, টানা এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিতে দক্ষিণাঞ্চলের ৯টি প্রদেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্যায় সেখানে ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানি সাত ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় ওঠায় বহু মানুষ বাড়ির ছাদে আটকা পড়েছেন।
উদ্ধার তৎপরতায় গতি আনতে থাইল্যান্ডের নৌবাহিনী একটি বিমানবাহী রণতরী, ২০টি হেলিকপ্টার এবং প্রচুর নৌকা ও ট্রাক মোতায়েন করেছে। ড্রোন এবং হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ও ছাদে আটকে থাকা মানুষদের কাছে খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তবে আশার কথা হলো, বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হাট ইয়াই শহরে পানি নামতে শুরু করেছে।
সুমাত্রা দ্বীপে একটি ট্রপিক্যাল সাইক্লোনের আঘাতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে দাঁড়িয়েছে। সেখানে এখনও অন্তত ১০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনটি প্রদেশে উদ্ধারকর্মীরা দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন। বন্যার পানির তোড়ে গাড়ি ভেসে গিয়ে স্তূপ তৈরি হয়েছে এবং কাদামাটির নিচে বহু ঘরবাড়ি চাপা পড়েছে।
প্রতিবেশী দেশ মালয়েশিয়ার সাতটি অঙ্গরাজ্যেও বন্যা দেখা দিয়েছে। সেখানে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন এবং ৩৪ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ফিলিপাইনের টাইফুন ‘কোটো’ এবং মালাক্কা প্রণালিতে অস্বাভাবিকভাবে সৃষ্টি হওয়া সাইক্লোন ‘সেনইয়ার’-এর পারস্পরিক প্রভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই চরম বৈরী আবহাওয়া ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






